ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

৬০ লাখ টাকা দিয়েও মুক্তি মেলেনি: লিবিয়ায় গুলি করে হত্যা বাংলাদেশিকে

অবৈধভাবে ইতালি যাবার পথে দালালদের ৬০ লাখ টাকা দিয়েও মুক্তি মেলেনি সোহাগ মুন্সীর। আরও ২৭ লাখ টাকা দিতে দেরি হওয়ায় গুলি করে হত্যার পর গুম করা হয়েছে তার মরদেহ। এই খবর পেয়ে নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। প্রিয় সন্তানের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্বজনেরা। স্থানীয় ও নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী মুন্সীর ছেলে সোহাগ মুন্সী। স্থানীয় মানবপাচারকারী দালাল ময়না আক্তার ও জুলহাস সরদারের খপ্পরে পড়েন তিনি। চুক্তি অনুযায়ী তাঁদের হাতে ২২ লাখ টাকা তুলে দেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাড়ি ছাড়েন সোহাগ মুন্সী। প্রথমে তাকে সৌদি আরব ও পরে লিবিয়ার ত্রিপলি নিয়ে বন্দী করে চালানো হয় অমানুষিক নির্যাতন। সেই ভিডিও পরিবারের কাছে পাঠিয়ে কয়েক ধাপে আরও ৩৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় দালাল চক্র। একপর্যায়ে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য আরও দুই লাখ টাকা চান দালাল চক্র। পরে সোহাগকে ফেরত না পাঠিয়ে গত ২৩ জুলাই দাবি করা হয় আরও ২৭ লাখ টাকা। ২৪ জুলাই সকাল ৮ টার মধ্যে টাকা দিতে বলেন। কিন্তু টাকা দিতে না পারায় সোহাগকে গুলি করে হত্যা করে মানবপাচারকারী মাফিয়ারা। ২৯ জুলাই দালালদের মাধ্যমেই সোহাগের মৃত্যুর খবর পান তাঁর পরিবার। এই খবরে ভেঙে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা। নিহতের মা শাহিনুর বেগম বলেন, ‘জমি বেচে, ধার করে ৬০ লাখ টাকা দিয়েও আমার ছেলেরে বাঁচাতে পারলাম না। এখন আমার ছেলের লাশটা যেন একটু দেখতে পারি, সেই ব্যবস্থা করেন। দালালদের ফাঁসি দেন।’ মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মণ বলেন, ‘এ ঘটনায় বুধবার রাতেই নিহত সোহাগের মা শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে রাজৈর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন। ইতিমধ্যে প্রধান আসামি জুলহাস সরদারকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ। বাকি আসামিদের ধরতে চলছে অভিযান। তবে মূল হোতারা অধিকাংশই দেশের বাইরে থাকায় ধরা সম্ভব হচ্ছে না। আর যারা দেশে আছে, তাঁরা প্রতি মুহূর্তে স্থান পরিবর্তন করছে। যে কারণে তাঁদের গ্রেপ্তার করা যাচ্ছে না।’

৬০ লাখ টাকা দিয়েও মুক্তি মেলেনি: লিবিয়ায় গুলি করে হত্যা বাংলাদেশিকে