ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

ইতালি নেওয়ার চুক্তি, লিবিয়ায় মাফিয়ার নির্যাতনে শিবচরের যুবকের মৃত্যু

আজ বৃহস্পতিবার সকালে ইকবালের মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে। নিহত ইকবাল দক্ষিণ বহেরাতলা ইউনিয়নের সরকারেরচর গ্রামের মোতালেব মাদবরের ছেলে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ মাস আগে শিবচরের বাঁশকান্দি ইউনিয়নের ছলেনামা গ্রামের মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য হিসেবে অভিযুক্ত সাগর মাদবর ও কামরুল মাদবরের মাধ্যমে ২০ লাখ টাকার চুক্তিতে ইতালির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন ইকবাল। কিন্তু নানান দেশ ঘুরিয়ে তাঁকে নেওয়া হয় লিবিয়ায়। পরিবারের ভাষ্য, লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর একবার ‘গেম’ দিয়ে ইতালি পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়। এরপর ইকবাল দালালদের তত্ত্বাবধানে লিবিয়ায় অবস্থান করছিলেন। একপর্যায়ে পুলিশ তাকে আটক করে জেলে নেয়। স্বজনদের দাবি, জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরে ইকবালকে মাফিয়াদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয় এবং মুক্তিপণ হিসেবে ১২ লাখ টাকা দাবি করা হয়। ধারদেনা করে পরিবারের সদস্যরা ৮ লাখ টাকা পাঠান। কিন্তু বাকি ৪ লাখ টাকা দিতে না পারায় তার ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনি মারা যান বলে পরিবারকে জানানো হয়। নিহতের বড় বোন মুক্তা আক্তার বলেন, ‘আমার ভাই প্রায় ১০ মাস আগে বাড়ি ছাড়ে। দালাল বলেছিল, সরাসরি লিবিয়া থেকে ইতালি নেবে। কিন্তু সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কাসহ নানান দেশ ঘুরিয়ে লিবিয়া নেয়। এরপর পুলিশে ধরে। জেলও খাটে। আমরা বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে দালালের সঙ্গে আলোচনা করতে থাকি। দালাল লাখ লাখ টাকা চায়। পরে শুনি ভাইকে মাফিয়ারা ধরে নিয়ে গেছে। এরপর মারধর করতে থাকে। আমরা তাদের চাহিদা মতো টাকা দিছি। ১২ লাখ টাকা চাইছে। ৮ লাখ দিছিলাম আমরা। এরপর আর কোন খোঁজ পাইনা ভাইয়ের। গতকাল ওর সঙ্গে থাকা বাঙালি একজন ফোন করে মৃত্যুর খবর দেয়।’ মুক্তা আক্তার আরও বলেন, ‘বুধবার সকালে লিবিয়া থেকে ফোন আসে। ইকবাল মারা গেছে। ওর জানাজা পড়ানো হয়েছে। মাফিয়ার নির্যাতনে মারা গেছে আমার ভাই। সবকিছুর জন্য দালাল সাগর দায়ী। ও এখন পলাতক। ওর কোন খোঁজ নাই। গা ঢাকা দিছে। আমার ভাই হত্যার বিচার চাই! আমার ভাইয়ের লাশ চাই।’ শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, অভিযোগ পেলে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহত ইকবাল এক বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে মেজো। তাঁর বাবা কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় জমি বিক্রি ও ধারদেনা করে তাকে ইতালির উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়েছিল।

ইতালি নেওয়ার চুক্তি, লিবিয়ায় মাফিয়ার নির্যাতনে শিবচরের যুবকের মৃত্যু