মেসডা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্বে আবুজার গাফ্ফার ও লিখন ইসলাম।
নতুন কমিটিতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আবুজার গাফ্ফার। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব মডার্ন ল্যাঙ্গুয়েজেস (আইএমএল)-এর ইংরেজি ভাষা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন লিখন ইসলাম।কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন— সহ-সভাপতি আকিব হাসান ও জুবাইদা তানজিম বিভা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিমুল আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আবু শামা আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক তাসনিয়া আক্তার, প্রচার সম্পাদক মোছা. মুন্নি, ক্রীড়া সম্পাদক রকিবুল হোসেন রূপক, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুল আলিম, অর্থ সম্পাদক দুর্রি মাকতুম তামান্না, আইনবিষয়ক সম্পাদক সিহাব হোসেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) সম্পাদক রুবাইয়া তাসনিম মেঘা, শিক্ষা ও স্টাডি সার্কেল সম্পাদক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ, ভর্তি বিষয়ক সম্পাদক মাহাবুব হাসান বায়েজিদ। এছাড়া নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তয়োব ইসলাম শুভ এবং জান্নাতুল বুশরা।নতুন কমিটির লক্ষ্য ও পরিকল্পনা সম্পর্কে দ্য ক্যাম্পাস টাইমস -কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সভাপতি আবুজার গাফ্ফার বলেন, “আমি প্রথম বর্ষ থেকেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় মেসডার সঙ্গে যুক্ত। প্রায় প্রতিটি কর্মসূচিতেই অংশ নিয়েছি। সেই অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়েছে, আমাদের অনেক অনুষ্ঠান সময়মতো এবং প্রত্যাশিত মানে আয়োজন করা হয়নি। বিশেষ করে নবীনবরণসহ বিভিন্ন কর্মসূচি অনেক দেরিতে হয়েছে। আমি এই সংস্কৃতি বদলাতে চাই।”তিনি বলেন, “মেসডা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। তাই সব সময় অর্থায়নের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে হবে না। সংগঠন থেকে অর্থায়ন না পেলেও আমরা নিজেদের উদ্যোগ ও অর্থায়নে ছোট ছোট কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব। আমাদের লক্ষ্য থাকবে সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা এবং সবাইকে একটি পরিবারের মতো একত্রে রাখা।”আগামী এক বছরের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা ফল উৎসব, নবীনবরণ, জুনিয়রদের নিয়ে শিক্ষা সফর, ইফতার মাহফিলসহ বিভিন্ন আয়োজনের পরিকল্পনা করেছি। পাশাপাশি প্রতি মাসে অন্তত একবার সদস্যদের নিয়ে আড্ডা, আবৃত্তি, গান, আলোচনা ও বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। আমরা চাই, প্রত্যেকে নিজের দক্ষতা দিয়ে মেসডাকে সমৃদ্ধ করুক এবং সংগঠন থেকে মানসম্মত কার্যক্রম বেরিয়ে আসুক।”উপদেষ্টা পরিষদ ও অ্যালামনাইদের প্রতি প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের একটাই চাওয়া—মেসডার প্রতিটি কর্মসূচিতে তাঁরা আমাদের পাশে থাকবেন। অর্থনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি তাঁদের পরামর্শ, অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা পেলে আমরা আরও সফলভাবে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করতে পারব।”মেহেরপুরের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আবুজার গাফ্ফার বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় দেশের একটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়। যারা উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছে, তারা আন্তরিকভাবে প্রস্তুতি নিলে এখানে ভর্তির সুযোগ পেতে পারে। তাই মেহেরপুরের শিক্ষার্থীদের বলব, ভালোভাবে পড়াশোনা করুন এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির চেষ্টা করুন।”বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “কোনো কমিটি একা সফল হতে পারে না। একটি কমিটির সফলতা নির্ভর করে শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর। তাই আমি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত মেহেরপুরের সব শিক্ষার্থীর সহযোগিতা কামনা করছি। সবাই যদি প্রতিটি কর্মসূচি ও সাংগঠনিক কার্যক্রমে পাশে থাকেন, তাহলে আমরা একটি প্রাণবন্ত, কার্যকর ও অনুসরণীয় মেসডা গড়ে তুলতে পারব।”
সংগঠনের পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত সকল নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী এক বছরে মেহেরপুরের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেসডার কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, সৃজনশীল ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।