ঢাকা    সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
The Campus Times online

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান: ঈদযাত্রায় নিহত ৪০২

ঈদযাত্রায় ২১ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত ১৫ দিনে ৩৯৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪০২ জন নিহত এবং এক হাজার ২৯৪ জন আহত হয়েছেন। যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, নিহতের প্রায় ২৯ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার খবর বিশ্লেষণ করে এ পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে বলে গতকাল রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী।  গত ৪ জুন বেসরকারি সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পরিসংখ্যানে বলা হয়,  ঈদুল আজহার আগে-পরে ১৩ দিনে, ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত,  ২৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮৩৭ জন। সরকারি প্রতিষ্ঠান সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) হিসাব অনুযায়ী, একই সময়ে ২০৭টি দুর্ঘটনায় ২৪১ জন নিহত এবং ৪৩৫ জন আহত হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এবং বিআরটিএর পরিসংখ্যানের তুলনায় যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা বেশি।  গত বছরের কোরবানির ঈদের তুলনায় এবারের ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা ৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ, নিহতের সংখ্যা ৩ দশমিক ৭ শতাংশ, আহতের সংখ্যা ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ বেড়েছে। ২০২৫ সালের ঈদুল আজহার আগে-পরে ১৫ দিনে ৩৭৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৯০ জন নিহত ও ১ হাজার ১৮২ জন আহত হয়। এ ছাড়া, এবার কোরবানির ঈদের আগে-পরে বিভিন্ন স্থানে রেলপথে ৩১টি দুর্ঘটনায় ২৩ জন নিহত, ৩০ জন আহত হয়েছেন। নৌ-পথে ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৩ জন নিহত ও ১৬ জন আহত হয়েছেন।  প্রতিবেদন অনুসারে, বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনায় শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ১৫৩টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫৯ জন নিহত, ১৮০ জন আহত হয়েছেন, যা মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। দুর্ঘটনায় পড়া যানবাহনের ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ মোটরসাইকেল, ২১ শতাংশ ৪০ শতাংশ ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান, ১৬ দশমিক ৫৬ শতাংশ বাস, ১২ দশমিক ৩৪ শতাংশ ব্যাটারিচালিত রিকশা, সাত দশমিক ৮১ শতাংশ কার-মাইক্রোবাস, ছয় শতাংশ ৫৬ নছিমন-করিমন এবং ছয় দশমিক ৪০ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা। সড়কে দুর্ঘটনায় হতাহতদের মধ্যে ৮০ জন চালক, ৮৯ জন পরিবহন শ্রমিক, ৫৯ জন পথচারী, ৬৪ জন নারী, ৪৫ জন শিশু, ৬৬ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য, তিনজন শিক্ষক, একজন চিকিৎসক, তিনজন সাংবাদিক, একজন প্রকৌশলী, চারজন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর পরিচয় মিলেছে। যাত্রী কল্যাণ সমিতি দুর্ঘটনার আট কারণকে দায়ী করছে- জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও অটোরিকশার অবাধ চলাচল, জাতীয় মহাসড়কে রোড সাইন ও সড়কবাতি না থাকায় হঠাৎ ফিডার রোড থেকে যানবাহন উঠে আসা, উল্টোপথে যানবাহন, সড়কে চাঁদাবাজি, পণ্যবাহী যানে যাত্রী পরিবহন, অদক্ষ চালক ও ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অতিরিক্ত যাত্রীবহন, বেপরোয়া যানবাহন চালানো এবং বিশ্রামহীনভাবে যানবাহন চালানো, বৃষ্টিতে সড়কের মাঝে গর্তের সৃষ্টি, ভাঙা সড়ক।  দুর্ঘটনা প্রতিরোধে উন্নত বিশ্বের আদলে আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, জাতীয় মহাসড়কে ফুটপাতসহ সার্ভিস লেইনের ব্যবস্থা করা, কাঠামোগত সংস্কার করে সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করাসহ ১০ দফা সুপারিশ করেছে সমিতি। 

যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান: ঈদযাত্রায় নিহত ৪০২