ঢাকা    বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

১৯ বছর আগে মেসির কোলের সেই শিশুই এবার তার প্রতিপক্ষ

এই অবিশ্বাস্য রূপকথার শুরু হয়েছিল ২০০৭ সালে।  কাতালান সংবাদপত্র ‘দিয়ারিও স্পোর্ত’ আয়োজিত ইউনিসেফের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ফটোশুটে অংশ নিয়েছিলেন ২০ বছর বয়সি তরুণ মেসি। বার্সেলোনার খেলোয়াড়দের সঙ্গে স্থানীয় সাধারণ পরিবারের শিশুদের নিয়ে এ প্রচারণামূলক ক্যাম্পেইনটি করা হয়েছিল। ভাগ্যচক্রে, মেসির কোলো তুলে দেওয়া হয়েছিল মাত্র কয়েক মাস বয়সি এক শিশুকে, যার নাম ছিল লামিন ইয়ামাল। পরম যত্নে সেই শিশুকে গোসল করানো এবং কোলে নিয়ে ছবি তোলার সময় মেসি নিজেও জানতেন না যে, তার কোলে থাকা এই ছোট্ট শিশুটিই একদিন বিশ্ব ফুটবলের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র হয়ে উঠবে।  বছরের পর বছর ধরে সেই ছবিগুলো সবার অলক্ষ্যেই ধুলোবালি মেখে পড়ে ছিল। কিন্তু ২০২৪ সালে ইয়ামালের বাবা স্যোশাল মিডিয়ায় ছবিগুলো শেয়ার করতেই পুরো ফুটবলবিশ্ব চমকে ওঠে।  মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যাওয়া সেই ছবিগুলো দেখে ভক্তরা স্তব্ধ হয়ে যান— মেসির কোল আলো করে থাকা সেই ছোট্ট শিশুই যে আজকের বার্সেলোনার নতুন জাদুকর!  ইয়ামাল কৈশোরের গণ্ডি না পেরোতেই ক্লাব ও দেশের হয়ে একের পর এক রেকর্ড ভেঙেছেন। অসাধারণ ড্রিবলিং, ক্ষুরধার দৃষ্টি এবং পরিণত ফুটবলীয় মস্তিষ্কের মাধ্যমে তিনি নিজেকে বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা আকর্ষণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।  অন্যদিকে সময়ের সঙ্গে লড়াই করে যাচ্ছেন ইয়ামালের শৈশবের নায়ক লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ক খেলছেন অবিশ্বাস্য ফুটবল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে যখন ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার উপক্রম, তখন শেষ মুহূর্তের দুটি জাদুকরী অ্যাসিস্টে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিয়ে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে গেছেন ফাইনালে। উনিশ বছর আগে যে শিশুকে হাত ধুইয়ে দিয়েছিলেন মেসি, সেই শিশুই আজ ফাইনালে দাঁড়াবে তার মুখোমুখি। বার্সেলোনার এক দাতব্য ফটোশুট থেকে শুরু হওয়া সেই গল্প আজ বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চে রূপ নিতে যাচ্ছে মহাকাব্যে।  ইতিহাস এখন কার মাথায় মুকুট পরাবে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।     

১৯ বছর আগে মেসির কোলের সেই শিশুই এবার তার প্রতিপক্ষ