স্টেশনে ট্রেন রেখে চালক উধাও, ফিরলেন এক ঘণ্টা পর
স্টেশন সূত্রে জানা যায়, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস বিকেল ৬টা ৭ মিনিটে মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে পৌঁছায়। নির্ধারিত দুই মিনিট বিরতির পর ট্রেন ছাড়ার সংকেত দেওয়া হলেও ট্রেনটি আর ছেড়ে যায়নি। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, চালক ইঞ্জিনে নেই এবং ইঞ্জিনের দরজাও বন্ধ।
প্রায় ১ ঘণ্টা ৭ মিনিট পর সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে চালক মাহবুবুর রহমান ফিরে এসে ট্রেনটি পুনরায় যাত্রা শুরু করেন। এ সময় দীর্ঘ অপেক্ষায় ক্ষুব্ধ যাত্রীরা স্টেশনে বিক্ষোভ করেন। পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশন মাস্টার ও কর্মচারীরা সাময়িকভাবে সরে যান।
ট্রেনের যাত্রী বাপ্পি নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আমি শুক্রবার রাজশাহীতে বিএসসি পরীক্ষা দিতে যাচ্ছি। খুলনা থেকে এই ট্রেনে উঠেছি। সময়মতো পৌঁছাতে না পারলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।
চালক মাহবুবুর রহমান ফিরে এলেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি। তিনি কোথায় ছিলেন বা কেন ট্রেন রেখে চলে গিয়েছিলেন—এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা না দিয়েই ট্রেন চালু করেন।
সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেসের গার্ড শফিকুল ইসলাম জানান, খুলনা থেকে ট্রেনটি যথাসময়ে মোবারকগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছায়। স্টেশন থেকে ছাড়ার অনুমতি দেওয়ার পরও ট্রেন না ছাড়ায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চালক ইঞ্জিন ছেড়ে চলে গেছেন। তবে তিনি কী কারণে অনুপস্থিত ছিলেন, তা তিনি জানেন না।
মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহজাহান আলী বলেন, সাগরদাঁড়ি ১৬১ আপ ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে স্টেশনে আসে। নিয়ম অনুযায়ী দুই মিনিট পর ক্লিয়ারেন্স দেওয়া হলেও ট্রেন ছাড়েনি। পরে দেখা যায় চালক ইঞ্জিনে নেই। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় পর তিনি ফিরে এসে ট্রেনটি নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।
এদিকে একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নকশীকাঁথা কমিউটার ট্রেনও পোড়াদহ জংশনে দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সেখানেও চালক কিছু সময় অনুপস্থিত থাকার পর ট্রেনটি পুনরায় চলাচল শুরু করে।