ঢাকা    শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩
The Campus Times online

চিত্রনায়িকা পরীমণি ও এডিসি সাকলায়েন (ইনসেটে)

মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সাবেক অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এবং বর্তমানে ঝিনাইদহ ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: গোলাম সাকলায়েনকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গোলাম সাকলায়েন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ঢাকায় ডিবির গুলশান বিভাগে কর্মকালীন পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়েও সরকারি দায়িত্বের বাইরে চিত্রনায়িকা পরীমণির সাথে নৈতিকতা বহির্ভূত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেন। তিনি বিবাহিত ও এক সন্তানের বাবা হওয়া সত্ত্বেও পরীমণির সাথে তার বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, পরীমণির সাথে জন্মদিন উদযাপন ও নিজের সরকারি বাসভবনে নিজ স্ত্রীর অবর্তমানে সময় কাটানোর মতো ঘটনা বিভিন্ন প্রচার মাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে, ২০২৩ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এডিসি গোলাম সাকলায়েনের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি মোতাবেক ‘অসদাচরণের’ অভিযোগে বিভাগীয় মামলা রুজুপূর্বক অভিযোগনামা ও অভিযোগ বিবরণী পাঠিয়ে তাকে কারণ দর্শাতে বলা হয়। ২০২৩ সালের ১৯ মার্চ অভিযোগনামার জবাব প্রদানপূর্বক ব্যক্তিগত শুনানির আবেদন করেন সাকলায়েন এবং একই মাসের ২৮ তারিখ তার ব্যক্তিগত শুনানি গ্রহণ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে আরো বলা হয়, কারণ দর্শানোর জবাব, ব্যক্তিগত শুনানি এবং প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুদণ্ড আরোপের সম্ভাবনা থাকায় আনীত অভিযোগগুলো তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দেয়ার জন্য সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ৭(২)(ঘ) মোতাবেক ২০২৩ সালের ৩০ আগস্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, দ্বিতীয় কারণ দর্শানো নোটিশের জবাব, তদন্ত প্রতিবেদন, অপরাধের গুরুত্ব ও প্রাসঙ্গিক অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনায় এডিসি সাকলায়েনের বিরুদ্ধে আনীত অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী বিধিমালা মোতাবেক তাকে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান’ সূচক গুরুদণ্ড প্রদানের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শকরণ) রেগুলেশনস মোতাবেক গুরুদণ্ড প্রদানের বিষয়ে পরামর্শ দেয়ার জন্য বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে অনুরোধ জানানো হলে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন তাকে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান সূচক গুরুদণ্ড আরোপ করা যায় বলে পরামর্শ প্রদান করে। এরপর তাকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান সূচক গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে রাষ্ট্রপতি চলতি বছরের ১৭ জুন সানুগ্রহ অনুমোদন করেন। এডিসি গোলাম সাকলায়েনকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা মোতাবেক ‘অসদাচরণ’ এর দায়ে রুজু করা বিভাগীয় মামলায় প্রমাণিত অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় একই বিধিমালার ৪ (৩) (খ) বিধি মোতাবেক তাকে চাকরি থেকে ‘বাধ্যতামূলক অবসর’ সূচক গুরুদণ্ড দেয়া হলো। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে। ২০২৪ সালের ১৩ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-২ শাখা থেকে উপ-সচিব রোকেয়া পারভিন জুঁইয়ের সই করা এক চিঠিতে গোলাম সাকলায়েনকে ‘গুরুদণ্ড’ হিসেবে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর বিষয়ে মতামত চেয়ে সরকারি কর্ম কমিশনে (পিএসসি) চিঠি পাঠানো হয়। চিঠিতে বলা হয়, মোবাইল ফোনের ফরেনসিক বিশ্লেষণে বিভিন্ন সময়ে, দিন ও রাত উভয় সময়েই, চিত্রনায়িকা পরীমণির বাসভবনে গোলাম সাকলায়েনের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার অংশ হিসেবে গুরুদণ্ড আরোপের বিষয়ে মতামত চাওয়া হয়। উল্লেখ্য, ঢাকার আশুলিয়ার বোট ক্লাবে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে চিত্রনায়িকা পরীমণির দায়ের করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন তৎকালীন ডিবি কর্মকর্তা সাকলায়েন শিথিল। ২০২১ সালের ১৩ জুন ওই ক্লাবের ঘটনার পর পরীমণিকে ধর্ষণচেষ্টা ও শারীরিক নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ এনে মামলা করা হয়। মামলার পরদিন আসামি হিসেবে ক্লাব নেতা ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদকে ঢাকার উত্তরার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। ওই মামলা তদন্তের অংশ হিসেবে পরীমনিকে গোয়েন্দা কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। আর তখনই ডিবির গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) গোলাম সাকলায়েনের সাথে পরীমণির পরিচয় হয়। এরপর র‌্যাবের মাদকবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হন পরীমণি। সেই মামলায় পরীমণির সংশ্লিষ্টতা অনুসন্ধানের প্রাথমিক পর্যায়েই গণমাধ্যমে উঠে আসে গোলাম সাকলায়েনের সাথে পরীমণির ঘনিষ্ঠতার কথা।

চিত্রনায়িকা পরীমণি ও এডিসি সাকলায়েন (ইনসেটে)