ঢাকা    বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

বাবা-মায়ের কষ্ট লাঘব করতে গৃহকর্মীর কাজ, লাশ হয়ে ফিরল তাহমিনা



বাবা-মায়ের কষ্ট লাঘব করতে গৃহকর্মীর কাজ, লাশ হয়ে ফিরল তাহমিনা
সিলেট নগরীর রায়নগরের এই বাসা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ (ছবি- ইউসুফ আলী)

বাবা দিনমজুর, সংসারে অভাব লেগেই থাকত। বড় মেয়ে হিসেবে বাবা-মায়ের কষ্ট লাঘব করতে চেয়েছিলেন তাহমিনা। গত কোরবানির ঈদের পর গৃহকর্মীর কাজ নিয়েছিল সিলেট নগরীর রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী-১১ নিকুঞ্জ ভিলায়। ৮২ বছরের বৃদ্ধ এম এ সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী ৭২ বছর বয়সী সুরাইয়া বেগমকে দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল তার। 

বুধবার সকালে রায়নগরের ওই বাসা থেকে উদ্ধার হয় তিনটি রক্তাক্ত মরদেহ। মরদেহগুলো ছিল কিশোরী গৃহকর্মী তাহমিনা, বাসার মালিক এম এ সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের। তিনজনেরই গলায় ছিল ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন। পুলিশের ধারণা, তাদেরকে জবাই করে খুন করেছে ঘাতকরা।

সুনামগঞ্জের ছাতক-দোয়ারাবাজার এলাকার দিনমজুর আপ্তাব মিয়ার পাঁচ সন্তানের মধ্যে তাহমিনা ছিলেন সবার বড়। আপ্তাব মিয়া পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন নগরীর জল্লারপারের বাচ্চু মিয়ার কলোনিতে।

মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে সকালেই ছুটে যান আপ্তাব মিয়া ও তাঁর পরিবারের লোকজন। মেয়ের লাশ দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তাহমিনার মা। ‘তাহমিনা তুই কই? আমারে আর কে ফোন দিব!’—বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এ সময় উপস্থিত তাহমিনার মামা রাহিম মিয়া জানান, তাঁর ভাগনি তাহমিনা পরিবারের হাল ধরতে চেয়েছিল। পরিবারের লোকজন ভালো ছিল। তাই তারা কাজে যেতে দিয়েছিলেন। তিনি জানান, প্রতি মাসে টাকা দিয়ে বাবাকে সহযোগিতাও করত। কিন্তু তার এভাবে লাশ হয়ে ফেরার কথা কেউ কল্পনাও করেনি। 

মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হবে। রিকাবী বাজারের জায়গাসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আগেই কেউ বাসায় প্রবেশ করে থাকতে পারে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। 

বিষয় : সিলেট খুন

The Campus Times online

বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬


বাবা-মায়ের কষ্ট লাঘব করতে গৃহকর্মীর কাজ, লাশ হয়ে ফিরল তাহমিনা

প্রকাশের তারিখ : ১২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাবা দিনমজুর, সংসারে অভাব লেগেই থাকত। বড় মেয়ে হিসেবে বাবা-মায়ের কষ্ট লাঘব করতে চেয়েছিলেন তাহমিনা। গত কোরবানির ঈদের পর গৃহকর্মীর কাজ নিয়েছিল সিলেট নগরীর রায়নগর আবাসিক এলাকার মিতালী-১১ নিকুঞ্জ ভিলায়। ৮২ বছরের বৃদ্ধ এম এ সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী ৭২ বছর বয়সী সুরাইয়া বেগমকে দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল তার। 

বুধবার সকালে রায়নগরের ওই বাসা থেকে উদ্ধার হয় তিনটি রক্তাক্ত মরদেহ। মরদেহগুলো ছিল কিশোরী গৃহকর্মী তাহমিনা, বাসার মালিক এম এ সাত্তার ও তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগমের। তিনজনেরই গলায় ছিল ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন। পুলিশের ধারণা, তাদেরকে জবাই করে খুন করেছে ঘাতকরা।

সুনামগঞ্জের ছাতক-দোয়ারাবাজার এলাকার দিনমজুর আপ্তাব মিয়ার পাঁচ সন্তানের মধ্যে তাহমিনা ছিলেন সবার বড়। আপ্তাব মিয়া পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকেন নগরীর জল্লারপারের বাচ্চু মিয়ার কলোনিতে।

মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে সকালেই ছুটে যান আপ্তাব মিয়া ও তাঁর পরিবারের লোকজন। মেয়ের লাশ দেখে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তাহমিনার মা। ‘তাহমিনা তুই কই? আমারে আর কে ফোন দিব!’—বলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এ সময় উপস্থিত তাহমিনার মামা রাহিম মিয়া জানান, তাঁর ভাগনি তাহমিনা পরিবারের হাল ধরতে চেয়েছিল। পরিবারের লোকজন ভালো ছিল। তাই তারা কাজে যেতে দিয়েছিলেন। তিনি জানান, প্রতি মাসে টাকা দিয়ে বাবাকে সহযোগিতাও করত। কিন্তু তার এভাবে লাশ হয়ে ফেরার কথা কেউ কল্পনাও করেনি। 

মহানগর পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিভিন্ন বিষয় সামনে রেখে তদন্ত করা হবে। রিকাবী বাজারের জায়গাসংক্রান্ত বিরোধের বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। তিনি মনে করেন, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার আগেই কেউ বাসায় প্রবেশ করে থাকতে পারে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। 


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
বাবা-মায়ের কষ্ট লাঘব করতে গৃহকর্মীর কাজ, লাশ হয়ে ফিরল তাহমিনা
0:00 0:00
1.0x