মাস্টার্স সম্পন্নের আগেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী রাজু আহমেদ ১৮তম বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পরীক্ষায় উক্তির্ণ হয়েছেন। বর্তমানে আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগে স্নাতকোত্তর ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে অধ্যয়নরত আছেন তিনি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) কমিশনের আদেশক্রমে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তসলিম আরিফের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। সারাদেশ থেকে মোট ২০০ জন সুপারিশপ্রাপ্তদের মধ্যে তিনি ২৬ তম হয়েছেন। নিজ বিভাগ থেকে থেকে দ্বিতীয়তম বিচারক হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন রাজু।
এ বিষয়ে আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের শিক্ষার্থী আশরাফুল আলম বলেন, ‘প্রায় এক যুগের খরা কাটিয়ে আল ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগ থেকে আবারও সিভিল জজ হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। রাজু ভাই বিভাগের দ্বিতীয় জজ হিসেবে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁর এই অর্জনে বিভাগে নতুন করে উৎসাহ ও আশার সঞ্চার হয়েছে, অনুপ্রাণিত হয়েছে শিক্ষার্থীরাও। একই সঙ্গে বিভাগকে ঘিরে প্রচলিত নানা নেতিবাচক ধারণা দূর করতেও এই অর্জন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। তাঁর সাফল্য আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন স্বপ্ন ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।’
এ সফলতায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে রাজু আহমেদ বলেন, ‘অনার্সের রেজাল্ট পাবলিশ হবার আগেই আমি আবেদন করেছিলাম, মাস্টার্স এখনও চলমান। আল্লাহ আমাকে প্রত্যাশার বেশি কিছু দিয়েছেন, আমি এতটা প্রত্যাশা করিনি যে আমার মেধাক্রম ২৬ আসবে৷ আল্লাহ তায়ালার কাছে সেজন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। নতুনদের জন্য উপদেশ থাকবে যে, শর্ট্কাট পড়াশোনা বাদ দিতে হবে, বিস্তারিতভাবে ও ভালো ভালো বইগুলো পড়তে হবে।’
এই জার্নিতে তার চ্যালেঞ্জের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার মাস্টার্স রানিং থাকার জন্য অ্যাকাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি এটাকে কন্টিনিউ করে দুইটা ব্যালেন্স করে পড়াশোনা করা চ্যালেঞ্জিং ছিলো। ইবিতে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ইচ্ছা ছিল জাজ হওয়ার। আর প্রথম থেকেই পড়াশোনা করার ইচ্ছা থাকলেও সেভাবে পারিনি। মূল পড়াশোনাটা শুরু করছিলাম থার্ড ইয়ার থেকে। কিন্তু আমি ভালো ভালো লেখকের বই থেকে পড়েছি।’
এ বিষয়ে আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আলতাফ হোসেন বলেন, “রাজু অত্যন্ত বিনয়ী ও ভদ্র। এই অবস্থানে পৌঁছাতে তাকে অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। তার এ সাফল্যে বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা আনন্দিত ও গর্বিত। তার প্রচেষ্টা অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করি। বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে আন্তরিক অভিনন্দন।”
উল্লেখ্য, ইসলামী আইন ও প্রচলিত আইনের সমন্বয়ে শিক্ষা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে ২০০৩-০৪ শিক্ষাবর্ষে আইন ও শরিয়াহ অনুষদের অধীনে আল ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের কার্যক্রম চালু হয়।