ঢাকা    শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩
The Campus Times online

জাবিতে সাইকেল চুরি বেড়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা



জাবিতে সাইকেল চুরি বেড়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা

সৌন্দর্য, সবুজে ঘেরা পরিবেশ ও বিস্তৃত ক্যাম্পাসের কারণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম সাইকেল। আবাসিক হল থেকে একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরি কিংবা ক্যাম্পাসের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে অনেক শিক্ষার্থী সাইকেলের ওপর নির্ভরশীল। তবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে একের পর এক সাইকেল চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবাসিক হল, অনুষদ ও বিভাগীয় ভবন, টিএসসি, ক্যাফেটেরিয়া এবং অন্যান্য জনসমাগমস্থলে সাইকেল রেখে ফিরে এসে অনেকেই তা আর খুঁজে পাচ্ছেন না। চুরির পর অভিযোগ জানাতে গিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা ও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের। এদিকে ক্যাম্পাসের কিছু অরক্ষিত প্রবেশপথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী, আলো ও সিসিটিভি না থাকায় চোরেরা সহজেই এসব পথ ব্যবহার করছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

সাইকেল হারিয়ে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে সাইকেল চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাজ শেষে নির্ধারিত স্থানে ফিরে এসে সাইকেল না পাওয়ায় অনেককে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি দৈনন্দিন যাতায়াতেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

রসায়ন বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আরেফিন বলেন, “গত ৪ তারিখ সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে টিউশনের উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে রাত ৯টায় ফিরে দেখি, আমার সাইকেলটি নেই। ঘটনার পর প্রক্টর অফিসে গেলেও কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে পাইনি। পরদিন সকালে গিয়ে দুপুর ১টার দিকে ফুটেজ দেখার সুযোগ পাই। চুরির দৃশ্য দেখা গেলেও চোরের মুখ অস্পষ্ট ছিল। সাইকেল উদ্ধারের চেষ্টার চেয়ে প্রক্টর অফিসে গিয়ে হয়রানির বিষয়টিই বেশি দুঃখজনক মনে হয়েছে। ক্যাম্পাসে প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ ‘সাইকেল পার্কিং’ তৈরির আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।”

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাফরাইন সিকদার বলেন, “গত ৩ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিভাগের নির্ধারিত পার্কিং স্লটে সাইকেলটি রেখে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে যাই। অনুষ্ঠান শেষে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ফিরে এসে দেখি, সেখানে সাইকেলটি নেই। পরে প্রক্টর অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেছি এবং সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সাইকেলটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।”

যেসব স্থান নিয়ে উদ্বেগ

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল, টিএসসি ও অনুষদ ভবনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থান থেকে সাইকেল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডেইরি গেটের এক নিরাপত্তাকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, চুরি হওয়া সাইকেলগুলো অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট দিয়ে বের না করে আমবাগান, ইসলামনগর ও পকেট গেটের মতো অপেক্ষাকৃত অরক্ষিত পথ দিয়ে বাইরে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রধান গেটগুলোতে নিরাপত্তাকর্মী ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকলেও কিছু ছোট ও বিকল্প প্রবেশপথে পর্যাপ্ত নজরদারি নেই। কোথাও পর্যাপ্ত আলো নেই, কোথাও নিয়মিত নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতিও নিশ্চিত করা হয় না। ফলে এসব পথ ব্যবহার করে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও চুরি করা মালামাল নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

নজরদারির ঘাটতিই কি সুযোগ তৈরি করছে?

ক্যাম্পাসের প্রধান প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও ছোট ও বিকল্প পথগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে রাতে এসব এলাকায় পর্যাপ্ত আলো, সিসিটিভি ও নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতি না থাকলে চুরি প্রতিরোধ কঠিন হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এর আগেও ক্যাম্পাসে সাইকেল চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা জামিনে বের হয়ে আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে শুধু চুরির পর অভিযুক্তকে আটক নয়, চক্রটির সঙ্গে কারা জড়িত, কীভাবে চুরি হওয়া সাইকেল ক্যাম্পাসের বাইরে যায় এবং কোথায় সেগুলো বিক্রি হয়—এসব বিষয়েও কার্যকর তদন্ত প্রয়োজন।

একই সঙ্গে দিনের কোন সময়ে চুরির ঘটনা বেশি ঘটে, সাইকেলগুলো তালাবদ্ধ ছিল কি না, চুরির সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল কি না এবং সিসিটিভি ফুটেজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয় কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা জরুরি।

নিরাপদ পার্কিংয়ের পরিকল্পনা প্রশাসনের

সাইকেল চুরি প্রতিরোধে নিরাপদ পার্কিং জোন তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম।

তিনি বলেন, “সাইকেল চুরি স্থায়ীভাবে রোধ করতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে, যেমন ডেইরি গেট ও মসজিদের সামনে, শেড তৈরি করে চারপাশ ঘিরে নির্দিষ্ট পার্কিং জোন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে একজন করে গার্ড দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি টোকেন সিস্টেম চালুর মাধ্যমে সাইকেল রাখা ও নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি ও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাজেট সাপেক্ষে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী মনপুরা এলাকা-সংলগ্ন সীমানাপ্রাচীরসহ ক্যাম্পাসের কয়েকটি স্থানে বিদ্যমান প্রাচীর সংস্কার ও নতুন করে নির্মাণের বৃহৎ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, সাইকেল চুরি প্রতিরোধে প্রশাসন দ্রুত দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। তাঁদের মতে, শুধু চুরির পর অভিযোগ গ্রহণ বা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মধ্যে ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ না রেখে চুরি প্রতিরোধে আগাম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপদ সাইকেল পার্কিং, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, অরক্ষিত প্রবেশপথে নজরদারি বৃদ্ধি, সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকর ব্যবহার এবং চুরির অভিযোগ দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি তাঁদের।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সাইকেল তাঁদের কাছে শুধু ব্যক্তিগত বাহন নয়; আবাসিক ও বিস্তৃত এই ক্যাম্পাসে এটি দৈনন্দিন চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাই সাইকেল চুরি রোধে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

The Campus Times online

শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬


জাবিতে সাইকেল চুরি বেড়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের তারিখ : ০৭ নভেম্বর ২০২৬

featured Image

সৌন্দর্য, সবুজে ঘেরা পরিবেশ ও বিস্তৃত ক্যাম্পাসের কারণে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম সাইকেল। আবাসিক হল থেকে একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরি কিংবা ক্যাম্পাসের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যেতে অনেক শিক্ষার্থী সাইকেলের ওপর নির্ভরশীল। তবে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে একের পর এক সাইকেল চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, আবাসিক হল, অনুষদ ও বিভাগীয় ভবন, টিএসসি, ক্যাফেটেরিয়া এবং অন্যান্য জনসমাগমস্থলে সাইকেল রেখে ফিরে এসে অনেকেই তা আর খুঁজে পাচ্ছেন না। চুরির পর অভিযোগ জানাতে গিয়ে প্রশাসনিক জটিলতা ও কার্যকর প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে তাঁদের। এদিকে ক্যাম্পাসের কিছু অরক্ষিত প্রবেশপথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী, আলো ও সিসিটিভি না থাকায় চোরেরা সহজেই এসব পথ ব্যবহার করছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

সাইকেল হারিয়ে ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্থানে সাইকেল চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাজ শেষে নির্ধারিত স্থানে ফিরে এসে সাইকেল না পাওয়ায় অনেককে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি দৈনন্দিন যাতায়াতেও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

রসায়ন বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আরেফিন বলেন, “গত ৪ তারিখ সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটের দিকে টিউশনের উদ্দেশ্যে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে রাত ৯টায় ফিরে দেখি, আমার সাইকেলটি নেই। ঘটনার পর প্রক্টর অফিসে গেলেও কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তাকে পাইনি। পরদিন সকালে গিয়ে দুপুর ১টার দিকে ফুটেজ দেখার সুযোগ পাই। চুরির দৃশ্য দেখা গেলেও চোরের মুখ অস্পষ্ট ছিল। সাইকেল উদ্ধারের চেষ্টার চেয়ে প্রক্টর অফিসে গিয়ে হয়রানির বিষয়টিই বেশি দুঃখজনক মনে হয়েছে। ক্যাম্পাসে প্রায়ই এমন ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ ‘সাইকেল পার্কিং’ তৈরির আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি।”

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাফরাইন সিকদার বলেন, “গত ৩ নভেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিভাগের নির্ধারিত পার্কিং স্লটে সাইকেলটি রেখে নবীনবরণ অনুষ্ঠানে যাই। অনুষ্ঠান শেষে রাত আনুমানিক ৩টার দিকে ফিরে এসে দেখি, সেখানে সাইকেলটি নেই। পরে প্রক্টর অফিসসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেছি এবং সিসিটিভি ফুটেজও পর্যালোচনা করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত সাইকেলটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।”

যেসব স্থান নিয়ে উদ্বেগ

ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল, টিএসসি ও অনুষদ ভবনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থান থেকে সাইকেল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ডেইরি গেটের এক নিরাপত্তাকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, চুরি হওয়া সাইকেলগুলো অনেক সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেট দিয়ে বের না করে আমবাগান, ইসলামনগর ও পকেট গেটের মতো অপেক্ষাকৃত অরক্ষিত পথ দিয়ে বাইরে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রধান গেটগুলোতে নিরাপত্তাকর্মী ও সিসিটিভি ক্যামেরার ব্যবস্থা থাকলেও কিছু ছোট ও বিকল্প প্রবেশপথে পর্যাপ্ত নজরদারি নেই। কোথাও পর্যাপ্ত আলো নেই, কোথাও নিয়মিত নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতিও নিশ্চিত করা হয় না। ফলে এসব পথ ব্যবহার করে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ ও চুরি করা মালামাল নিয়ে বের হয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

নজরদারির ঘাটতিই কি সুযোগ তৈরি করছে?

ক্যাম্পাসের প্রধান প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলেও ছোট ও বিকল্প পথগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে রাতে এসব এলাকায় পর্যাপ্ত আলো, সিসিটিভি ও নিরাপত্তাকর্মীর উপস্থিতি না থাকলে চুরি প্রতিরোধ কঠিন হয়ে পড়ে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, এর আগেও ক্যাম্পাসে সাইকেল চুরির ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে তারা জামিনে বের হয়ে আবার একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে শুধু চুরির পর অভিযুক্তকে আটক নয়, চক্রটির সঙ্গে কারা জড়িত, কীভাবে চুরি হওয়া সাইকেল ক্যাম্পাসের বাইরে যায় এবং কোথায় সেগুলো বিক্রি হয়—এসব বিষয়েও কার্যকর তদন্ত প্রয়োজন।

একই সঙ্গে দিনের কোন সময়ে চুরির ঘটনা বেশি ঘটে, সাইকেলগুলো তালাবদ্ধ ছিল কি না, চুরির সময় সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল কি না এবং সিসিটিভি ফুটেজ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয় কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখা জরুরি।

নিরাপদ পার্কিংয়ের পরিকল্পনা প্রশাসনের

সাইকেল চুরি প্রতিরোধে নিরাপদ পার্কিং জোন তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হালিম।

তিনি বলেন, “সাইকেল চুরি স্থায়ীভাবে রোধ করতে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে, যেমন ডেইরি গেট ও মসজিদের সামনে, শেড তৈরি করে চারপাশ ঘিরে নির্দিষ্ট পার্কিং জোন করার পরিকল্পনা রয়েছে। সেখানে একজন করে গার্ড দায়িত্বে থাকবেন। পাশাপাশি টোকেন সিস্টেম চালুর মাধ্যমে সাইকেল রাখা ও নেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে চিঠি ও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বাজেট সাপেক্ষে খুব দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী মনপুরা এলাকা-সংলগ্ন সীমানাপ্রাচীরসহ ক্যাম্পাসের কয়েকটি স্থানে বিদ্যমান প্রাচীর সংস্কার ও নতুন করে নির্মাণের বৃহৎ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা

শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, সাইকেল চুরি প্রতিরোধে প্রশাসন দ্রুত দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। তাঁদের মতে, শুধু চুরির পর অভিযোগ গ্রহণ বা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মধ্যে ব্যবস্থা সীমাবদ্ধ না রেখে চুরি প্রতিরোধে আগাম নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে নিরাপদ সাইকেল পার্কিং, পর্যাপ্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ, অরক্ষিত প্রবেশপথে নজরদারি বৃদ্ধি, সিসিটিভি ক্যামেরার কার্যকর ব্যবহার এবং চুরির অভিযোগ দ্রুত তদন্তের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি তাঁদের।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, সাইকেল তাঁদের কাছে শুধু ব্যক্তিগত বাহন নয়; আবাসিক ও বিস্তৃত এই ক্যাম্পাসে এটি দৈনন্দিন চলাচলের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাই সাইকেল চুরি রোধে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
জাবিতে সাইকেল চুরি বেড়েছে, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষার্থীরা
0:00 0:00
1.0x