মালয়েশিয়ার পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটি তার প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর। আজ রোববার দুপুর পৌনে ৩টায় তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর ত্যাগ করে।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় যাচ্ছেন। দুই দিনের এই সফর। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মর্যাদা, উন্নয়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার এই সফর বাংলাদেশের স্বার্থ গুরুত্ব পাবে।
বিমানবন্দরে এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, ঢাকায় মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার শুহাদা ওসমান, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ ঊধর্তন সরকারি কর্মকর্তারা শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এর চার মাস বাদে প্রথম বিদেশ সফরে গেলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন—পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ ২৩ জন।
গতকাল শনিবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে মালয়েশিয়া ও চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছয় দিনের সফরসূচি তুলে ধরেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। তিনি জানান, সরকারপ্রধানের কুয়ালালামপুরের সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় আর মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, সফরের প্রথম দিন রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়ায় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। পরদিন পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের একান্ত বৈঠক হবে। এর পরপরই উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুইদেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম। তিনি বলেন, ‘বিশেষত, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ এবং বাংলাদেশিদের কল্যাণের বিষয়ে অনুরোধ জানানো হবে।’
আসাদ আলম সিয়াম আরও বলেন, মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের আসিয়ানের ‘ডায়ালগ পার্টনার এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ-আরসেপে’ যোগদান করার আবেদন জোরালোভাবে তুলে ধরে মালয়েশিলার সমর্থন চাওয়া হবে।
মালয়েশিয়ার দুইদিনের সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রস্তাবিত কর্মসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী ২২ জুন দুপুরে কুয়ালালামপুর থেকে দালিয়ানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন, সন্ধ্যায় পৌঁছাবেন।
২৬ জুন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। তিনি বলেন, বৈঠক শেষে সেদিন বিকেলে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সন্ধ্যায় ঢাকায় অবতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী।