ঢাকা    মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
The Campus Times online

মায়ের জমানো ৭০০ টাকার বুট থেকে সাফজয়ী সুমন



মায়ের জমানো ৭০০ টাকার বুট থেকে সাফজয়ী সুমন
সুমন। ছবি: সংগৃহীত

প্রান্তিকতার গণ্ডি পেরিয়ে স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার গল্প সুমন সরেনের। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ছোট্ট গ্রাম বাঁশবাড়ির একটি সাঁওতাল পরিবারে বেড়ে ওঠা তাঁর। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও তিনি নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে নিয়ে গেছেন অনূর্ধ্ব-২০ সাফ ফাইনালের মাটিতে। তরুণ এই ফুটবলার এখন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের গর্বিত অংশীদার।

ছোটবেলা থেকে ফুটবলের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল সুমন সরেনের। খালি পায়ে বল নিয়ে গ্রামের মাঠে দৌড়াতে দৌড়াতেই তাঁর ফুটবলের স্বপ্ন দেখা শুরু।

সুমনের জীবনের স্মরণীয় ঘটনা মায়ের জমানো ৭০০ টাকায় কেনা এক জোড়া বুট। সেটিই ছিল তাঁর প্রথম ফুটবল বুট। সেই এক জোড়া বুটই ছিল তাঁর ফুটবল স্বপ্নের প্রথম বড় সম্বল।

তবে এই স্বপ্নের পথ মোটেও সহজ ছিল না। দারিদ্র্য আর নানা প্রতিকূলতা ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি সুমন সরেনের বাবা হাকিম সরেন যক্ষ্মায় আক্রান্ত হলে পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর ওপর। ফুটবল আর পরিবার তখন একই সুতোয় বাঁধা। একদিকে ফুটবল, অন্যদিকে পরিবারের দায়িত্ব—দুই লড়াই একসঙ্গে চালিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। তবু থেমে যাননি তিনি। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় আর অদম্য মানসিক শক্তিতে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেছেন বড় মঞ্চের দিকে। প্রায় আট বছর ধরে পেশাদার ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত সুমন। তিন বছর ধরে তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত খেলছেন।

সম্প্রতি সাফ অনূর্ধ্ব-২০ (পুরুষ) ফুটবলের শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েন লাল-সবুজের যুবারা। সেই বাংলাদেশ দলের হয়ে ফাইনালেও মাঠে ছিলেন সুমন সরেন। দেশের এই সাফল্যের অংশ হতে পেরে তিনি গর্বিত।

ফুটবল খেলার পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছেন সুমন। বর্তমানে তিনি সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে চান সুমন সরেন। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ারও ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।

সুমনের ফুটবল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে পুঠিয়া ফুটবল একাডেমি। সেখানে প্রশিক্ষক আদনান এবং সহকারী কোচদের তত্ত্বাবধানে নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিনি। ধারাবাহিক উন্নতির ফলে জায়গা করে নেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলে।

ছেলের সাফল্যে গর্বিত তাঁর পরিবার। তাঁরা চান, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুমন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখুক।

বিষয় : ক্যাম্পাস ছাপা সংস্করণ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ শিক্ষা

The Campus Times online

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬


মায়ের জমানো ৭০০ টাকার বুট থেকে সাফজয়ী সুমন

প্রকাশের তারিখ : ১৭ মে ২০২৬

featured Image

প্রান্তিকতার গণ্ডি পেরিয়ে স্বপ্নকে ছুঁয়ে দেখার গল্প সুমন সরেনের। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ছোট্ট গ্রাম বাঁশবাড়ির একটি সাঁওতাল পরিবারে বেড়ে ওঠা তাঁর। নানা প্রতিকূলতার মধ্যে থেকেও তিনি নিজের স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরে নিয়ে গেছেন অনূর্ধ্ব-২০ সাফ ফাইনালের মাটিতে। তরুণ এই ফুটবলার এখন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের হয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের গর্বিত অংশীদার।

ছোটবেলা থেকে ফুটবলের প্রতি গভীর আগ্রহ ছিল সুমন সরেনের। খালি পায়ে বল নিয়ে গ্রামের মাঠে দৌড়াতে দৌড়াতেই তাঁর ফুটবলের স্বপ্ন দেখা শুরু।

সুমনের জীবনের স্মরণীয় ঘটনা মায়ের জমানো ৭০০ টাকায় কেনা এক জোড়া বুট। সেটিই ছিল তাঁর প্রথম ফুটবল বুট। সেই এক জোড়া বুটই ছিল তাঁর ফুটবল স্বপ্নের প্রথম বড় সম্বল।

তবে এই স্বপ্নের পথ মোটেও সহজ ছিল না। দারিদ্র্য আর নানা প্রতিকূলতা ছিল তাঁর নিত্যসঙ্গী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি সুমন সরেনের বাবা হাকিম সরেন যক্ষ্মায় আক্রান্ত হলে পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তাঁর ওপর। ফুটবল আর পরিবার তখন একই সুতোয় বাঁধা। একদিকে ফুটবল, অন্যদিকে পরিবারের দায়িত্ব—দুই লড়াই একসঙ্গে চালিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। তবু থেমে যাননি তিনি। কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় আর অদম্য মানসিক শক্তিতে ধীরে ধীরে এগিয়ে গেছেন বড় মঞ্চের দিকে। প্রায় আট বছর ধরে পেশাদার ফুটবলের সঙ্গে যুক্ত সুমন। তিন বছর ধরে তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে নিয়মিত খেলছেন।

সম্প্রতি সাফ অনূর্ধ্ব-২০ (পুরুষ) ফুটবলের শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েন লাল-সবুজের যুবারা। সেই বাংলাদেশ দলের হয়ে ফাইনালেও মাঠে ছিলেন সুমন সরেন। দেশের এই সাফল্যের অংশ হতে পেরে তিনি গর্বিত।

ফুটবল খেলার পাশাপাশি পড়াশোনাও চালিয়ে যাচ্ছেন সুমন। বর্তমানে তিনি সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান ও সমাজকর্ম বিভাগের শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে চান সুমন সরেন। ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে বিভিন্ন ফুটবল টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ারও ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।

সুমনের ফুটবল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে পুঠিয়া ফুটবল একাডেমি। সেখানে প্রশিক্ষক আদনান এবং সহকারী কোচদের তত্ত্বাবধানে নিজেকে গড়ে তুলেছেন তিনি। ধারাবাহিক উন্নতির ফলে জায়গা করে নেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলে।

ছেলের সাফল্যে গর্বিত তাঁর পরিবার। তাঁরা চান, দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুমন নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখুক।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
মায়ের জমানো ৭০০ টাকার বুট থেকে সাফজয়ী সুমন
0:00 0:00
1.0x