এদিকে শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে ময়নাতদন্ত শেষে নিহতদের মরদেহ হস্তান্তর করেছে পুলিশ। তবে এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয়দের পিটুনিতে নিহত অন্তর মজুমদারের (৩০) মরদেহ এখনও পড়ে আছে হিমঘরে।
জানা গেছে, অন্তর মজুমদার নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর এলাকার কার্তিক মজুমদারের ছেলে। সে সদরের উত্তর তেহমনি এলাকার খোরশেদের ফলের আড়ত থেকে ফল কিনে রায়পুর শহরে এনে বিক্রি করতো বলে হাবিব নামের তার এক বন্ধু জানান।
তবে হত্যাকাণ্ডের শিকার পরিবারটির সঙ্গে তার কী সম্পর্ক বা কেন এই নৃশংসতা– এ নিয়ে মানুষের মনে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। কেউ কেউ লেনদেনের কথা বললেও পুলিশ এখনও নাশকতা ধারণা করে তদন্ত করছে।
মামলার বাদী জুনাইদ ইসলাম শিফাত বলেন, ঘটনাটি টাকা বা স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশ্যেও ঘটতে পারে। কারণ বাড়িওয়ালা বাসায় না থাকলে ভাড়াটিয়ারা আমার মায়ের কাছেই ভাড়া জমা দিতেন। পরে বাড়িওয়ালা এসে সেই টাকা নিয়ে যেতেন। এ ছাড়া বাসার দায়িত্বে ছিলেন আম্মু।
রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুর রাশেদ বলেন, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এ পর্যন্ত দুটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ৯টার দিকে রায়পুর পৌরসভার ধানহাটা ডাকাতিয়া নদীর পাড় এলাকায় আমির হোসেন মাস্টারের পাঁচতলা ভবনের নিচতলার একটি ভাড়া বাসায় এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভ্রাম্যমাণ ফল বিক্রেতা অন্তর মজুমদার বাসায় ঢুকে গৃহবধূ শাহীনুর বেগম এবং তার তিন মেয়ে—সায়মা আক্তার, ইকরা আক্তার ও শিফা আক্তারকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন।
ঘটনাস্থলেই শাহীনুর বেগম (৩৮) ও তার মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) ও শিফা আক্তারকে (৯) মারা যায়। পরে গুরুতর আহত বড় মেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা আক্তার (২০) হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদেরও মৃত্যু হয়।