ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩
The Campus Times online

বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম তাজমহলের অস্তিত্ব নিয়ে নতুন করে শুরু হয়েছে আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্ক। ঐতিহাসিক এই স্মৃতিসৌধটির নিচে প্রাচীন মন্দিরের অস্তিত্ব আছে কি না, তা যাচাই করতে কেন জরিপ করা হবে না—তা জানতে চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াকে (এএসআই) নোটিশ জারি করেছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।

ভারতে এবার কি তাজমহল ভেঙে মন্দির করা হবে!



ভারতে এবার কি তাজমহল ভেঙে মন্দির করা হবে!

আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈনের নেতৃত্বে আবেদনকারী পক্ষ দাবি করছে, তাজমহল আসলে মোগল সম্রাট শাহজাহানের তৈরি কোনো স্মৃতিসৌধ নয়, বরং এটি ভগবান মহাদেবের উদ্দেশে নিবেদিত প্রাচীন হিন্দু মন্দির ‘তেজো মহালয়া’। হিন্দুত্ববাদী এই আইনজীবীদের দাবি, ১১৫৫-৫৬ খ্রিষ্টাব্দে রাজা পরমর্দি দেব এটি নির্মাণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে মোগলরা এটি জোরপূর্বক দখল করে রূপান্তর করে।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রোহিতরঞ্জন আগরওয়ালের বেঞ্চে শুনানির সময় বাদীপক্ষ তাজমহল প্রাঙ্গণের ভেতরে হিন্দুদের পূজা করার অনুমতি ও সৌধটি জরিপের জন্য অ্যাডভোকেট-কমিশনার নিয়োগের আবেদন জানায়। অতীতে আগ্রার নিম্ন আদালত পর্যাপ্ত নথিপত্রের অভাব দেখিয়ে এই আবেদন খারিজ করে দিলেও, এবার সেই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আবেদনকারীরা।

ইউনেস্কো স্বীকৃত এই হেরিটেজ সাইট সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মতে, ১৬৩১ থেকে ১৬৫৩ সালের মধ্যে মোগল সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয় পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে এটি নির্মাণ করেন। তবে আবেদনকারী পক্ষের দাবি, তাদের কাছে ১০৯টি প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ রয়েছে যা প্রমাণ করে এটি একটি মন্দির। এছাড়াও, এএসআই কর্তৃক তাজমহলে নামাজ পড়ার অনুমতি প্রদান এবং সৌধের কিছু অংশ তালাবদ্ধ রাখার বিষয়টিও তাদের আবেদনে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলার ঐতিহাসিক রায়ের পর থেকে ভারতে ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর আদি পরিচয় নিয়ে নানা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তাজমহল নিয়ে এই নতুন আইনি পদক্ষেপ সেই বিতর্কেরই এক নতুন অধ্যায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবেদনকারীদের মূল লক্ষ্য হলো—তাজমহলের ভেতরে ছবি ও ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে আদালতের মাধ্যমে সৌধটির ‘হিন্দু মন্দির’ হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করা।

এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে উচ্চ আদালত। এই মামলার চূড়ান্ত রায় কেবল তাজমহলের ধর্মীয় পরিচয়ের বিতর্কই উসকে দেবে না, বরং ভারতের প্রাচীন স্থাপনা ও ইতিহাস রক্ষায় এক নতুন আইনি নজির তৈরি করবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিষয় : ভারত বিশ্ব সংবাদ মন্দির

The Campus Times online

মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬


ভারতে এবার কি তাজমহল ভেঙে মন্দির করা হবে!

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুলাই ২০২৬

featured Image

আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈনের নেতৃত্বে আবেদনকারী পক্ষ দাবি করছে, তাজমহল আসলে মোগল সম্রাট শাহজাহানের তৈরি কোনো স্মৃতিসৌধ নয়, বরং এটি ভগবান মহাদেবের উদ্দেশে নিবেদিত প্রাচীন হিন্দু মন্দির ‘তেজো মহালয়া’। হিন্দুত্ববাদী এই আইনজীবীদের দাবি, ১১৫৫-৫৬ খ্রিষ্টাব্দে রাজা পরমর্দি দেব এটি নির্মাণ করেছিলেন এবং পরবর্তীতে মোগলরা এটি জোরপূর্বক দখল করে রূপান্তর করে।

এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি রোহিতরঞ্জন আগরওয়ালের বেঞ্চে শুনানির সময় বাদীপক্ষ তাজমহল প্রাঙ্গণের ভেতরে হিন্দুদের পূজা করার অনুমতি ও সৌধটি জরিপের জন্য অ্যাডভোকেট-কমিশনার নিয়োগের আবেদন জানায়। অতীতে আগ্রার নিম্ন আদালত পর্যাপ্ত নথিপত্রের অভাব দেখিয়ে এই আবেদন খারিজ করে দিলেও, এবার সেই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন আবেদনকারীরা।

ইউনেস্কো স্বীকৃত এই হেরিটেজ সাইট সম্পর্কে ঐতিহাসিকদের মতে, ১৬৩১ থেকে ১৬৫৩ সালের মধ্যে মোগল সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয় পত্নী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে এটি নির্মাণ করেন। তবে আবেদনকারী পক্ষের দাবি, তাদের কাছে ১০৯টি প্রত্নতাত্ত্বিক প্রমাণ রয়েছে যা প্রমাণ করে এটি একটি মন্দির। এছাড়াও, এএসআই কর্তৃক তাজমহলে নামাজ পড়ার অনুমতি প্রদান এবং সৌধের কিছু অংশ তালাবদ্ধ রাখার বিষয়টিও তাদের আবেদনে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলার ঐতিহাসিক রায়ের পর থেকে ভারতে ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর আদি পরিচয় নিয়ে নানা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। তাজমহল নিয়ে এই নতুন আইনি পদক্ষেপ সেই বিতর্কেরই এক নতুন অধ্যায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আবেদনকারীদের মূল লক্ষ্য হলো—তাজমহলের ভেতরে ছবি ও ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে আদালতের মাধ্যমে সৌধটির ‘হিন্দু মন্দির’ হিসেবে স্বীকৃতি আদায় করা।

এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে উচ্চ আদালত। এই মামলার চূড়ান্ত রায় কেবল তাজমহলের ধর্মীয় পরিচয়ের বিতর্কই উসকে দেবে না, বরং ভারতের প্রাচীন স্থাপনা ও ইতিহাস রক্ষায় এক নতুন আইনি নজির তৈরি করবে বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
ভারতে এবার কি তাজমহল ভেঙে মন্দির করা হবে!
0:00 0:00
1.0x