ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সম্প্রতি সাইকেল চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিভিন্ন হল ও একাডেমিক ভবনের সামনে রাখা সাইকেল চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
গত ৫ জুলাই ২০২৬ তারিখে ক্যাম্পাসে অন্তত দুটি পৃথক স্থানে সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে দুপুর ১টা ২৩ মিনিটে আইন বিভাগের সামনে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী, তালা কেটে একটি সাইকেল চুরি করা হয়। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘাড়ে ব্যাগ ও মুখে মাস্ক পরিহিত এক ব্যক্তি সাইকেলটি নিয়ে চলে যায়। তার পোশাক-পরিচ্ছদ এমন ছিল যে, তাকে সহজেই একজন সাধারণ শিক্ষার্থী বলে মনে হতে পারে।
একই দিনে দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হলের শহীদ শরাফত আলী ভবনের সামনে অবস্থিত সাইকেল গ্যারেজে, যেখানে আরেকটি সাইকেল চুরি হয়।
এ বিষয়ে শহীদুল্লাহ হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক তাওকির হাসান The Campus Times কে বলেন, "সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেও চোরকে স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি ভুক্তভোগীকে সঙ্গে নিয়ে হল প্রশাসনের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। হল প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে হলের সাইকেল গ্যারেজে ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানিয়েছে হল সংসদ।"
ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক সাইকেল চুরির বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর আইন সম্পাদক সাখাওয়াত জাকারিয়া The Campus Times কে বলেন, "শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডাকসু কাজ করে যাচ্ছে। যেসব স্থানে বারবার সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটছে, বিশেষ করে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও বিভিন্ন হলের সাইকেল গ্যারেজে, সেখানে নিরাপত্তারক্ষী নিয়োগের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। পূর্বেও সাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িত কয়েকটি চক্রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কিছু চুরি হওয়া সাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এসব চক্রের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা কাজ করব। একই সঙ্গে বহিরাগতমুক্ত নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিত করারও দাবি জানানো হয়েছে।"
ক্যাম্পাসে ধারাবাহিক সাইকেল চুরির ঘটনায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, চোর চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং হল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।