ঢাকা    শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩
The Campus Times online

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ‘ফেডারেল রিজার্ভ’ সুদের হার উচ্চ রাখার নীতিতে অটল থাকতে পারে— এমন উদ্বেগে আন্তর্জাতিক বাজারে শুক্রবার (১০ জুলাই) স্বর্ণের দাম কমেছে। খবর রয়টার্সের।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন



বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

আজ আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১১৩.০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই পতনের কারণে চলতি সপ্তাহে সামগ্রিকভাবে স্বর্ণের দাম প্রায় ১.৫ শতাংশ কমতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন গোল্ড ফিউচার্সের ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২১.৯০ ডলারে নেমে এসেছে। 

আন্তর্জাতিক বাজারে ৩১.১০৩ গ্রামে এক আউন্স হিসাব করা হয়। অন্যদিকে ১ ভরিতে থাকে ১১.৬৬৪ গ্রাম। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমান দাম অনুযায়ী প্রতি গ্রাম স্বর্ণের মূল্য দাঁড়ায় ১৩২.২৩ ডলার। সেই হিসাবে প্রতি ভরির আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য পড়ে প্রায় ১ হাজার ৫৪২.৩ ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় কনভার্ট করলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের নিখাদ দাম দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬ টাকা।

উল্লেখ্য, এটি সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক কাঁচা স্বর্ণের দর। এর সঙ্গে স্থানীয় শুল্ক, ভ্যাট, আমদানিকারকদের মুনাফা এবং জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) নির্ধারিত মেকিং চার্জ যুক্ত হয়ে দেশের বাজারে খুচরা মূল্য চূড়ান্ত হয়। আরও পড়ুনআরও পড়ুনভেনেজুয়েলার জন্য ৩০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহের আহ্বান জাতিসংঘের

সুদের হারের ভয় ও অর্থনৈতিক সমীকরণ

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, গতকালের উত্থানের পর স্বর্ণ বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান অনিশ্চিত সম্পর্কের কারণে ব্যবসায়ীরা এই মুহূর্তে নতুন করে বড় বিনিয়োগে দ্বিধাবোধ করছেন।

সাধারণত স্বর্ণের মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হলেও, উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে অলভ্যাংশকারী সম্পদ হওয়ায় স্বর্ণ তার আকর্ষণ কিছুটা হারায়। সিএমইর ‘ফেডওয়াচ টুল’ অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন ৬৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৫৪ শতাংশ।

চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত ফেডারেল রিজার্ভের জুন মাসের সভার কার্যবিবরণী থেকেও নীতি-নির্ধারকদের মনে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন মুদ্রানীতির কঠোর অবস্থান এবং ডলার শক্তিশালী হওয়ার কারণ দেখিয়ে ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য স্বর্ণের গড় দামের পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়ে এনেছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও আজ মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে, তবে সবকটি ধাতুই সাপ্তাহিক পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০.১০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। 

বিষয় : স্বর্ণ স্বর্ণের দাম

The Campus Times online

শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬


বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

প্রকাশের তারিখ : ১০ জুলাই ২০২৬

featured Image

আজ আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ০.২ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১১৩.০২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এই পতনের কারণে চলতি সপ্তাহে সামগ্রিকভাবে স্বর্ণের দাম প্রায় ১.৫ শতাংশ কমতে যাচ্ছে। অন্যদিকে, আগামী আগস্ট মাসে সরবরাহের চুক্তিতে মার্কিন গোল্ড ফিউচার্সের ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১২১.৯০ ডলারে নেমে এসেছে। 

আন্তর্জাতিক বাজারে ৩১.১০৩ গ্রামে এক আউন্স হিসাব করা হয়। অন্যদিকে ১ ভরিতে থাকে ১১.৬৬৪ গ্রাম। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমান দাম অনুযায়ী প্রতি গ্রাম স্বর্ণের মূল্য দাঁড়ায় ১৩২.২৩ ডলার। সেই হিসাবে প্রতি ভরির আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য পড়ে প্রায় ১ হাজার ৫৪২.৩ ডলারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় কনভার্ট করলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের নিখাদ দাম দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৬ টাকা।

উল্লেখ্য, এটি সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক কাঁচা স্বর্ণের দর। এর সঙ্গে স্থানীয় শুল্ক, ভ্যাট, আমদানিকারকদের মুনাফা এবং জুয়েলার্স সমিতির (বাজুস) নির্ধারিত মেকিং চার্জ যুক্ত হয়ে দেশের বাজারে খুচরা মূল্য চূড়ান্ত হয়। আরও পড়ুনআরও পড়ুনভেনেজুয়েলার জন্য ৩০ কোটি ডলার তহবিল সংগ্রহের আহ্বান জাতিসংঘের

সুদের হারের ভয় ও অর্থনৈতিক সমীকরণ

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, গতকালের উত্থানের পর স্বর্ণ বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বর্তমান অনিশ্চিত সম্পর্কের কারণে ব্যবসায়ীরা এই মুহূর্তে নতুন করে বড় বিনিয়োগে দ্বিধাবোধ করছেন।

সাধারণত স্বর্ণের মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখা হলেও, উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে অলভ্যাংশকারী সম্পদ হওয়ায় স্বর্ণ তার আকর্ষণ কিছুটা হারায়। সিএমইর ‘ফেডওয়াচ টুল’ অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বর মাসে ফেডারেল রিজার্ভ কর্তৃক সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন ৬৩ শতাংশে উন্নীত হয়েছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ৫৪ শতাংশ।

চলতি সপ্তাহে প্রকাশিত ফেডারেল রিজার্ভের জুন মাসের সভার কার্যবিবরণী থেকেও নীতি-নির্ধারকদের মনে উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। এর ওপর ভিত্তি করে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন মুদ্রানীতির কঠোর অবস্থান এবং ডলার শক্তিশালী হওয়ার কারণ দেখিয়ে ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জন্য স্বর্ণের গড় দামের পূর্বাভাস কিছুটা কমিয়ে এনেছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও আজ মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে, তবে সবকটি ধাতুই সাপ্তাহিক পতনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। স্পট সিলভার বা রুপার দাম ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬০.১০ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। 


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
0:00 0:00
1.0x