উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকমণ্ডলি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস 'পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার' ক্যাটাগরিতে জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৫ পেয়েছে। রবিবার ইনস্টিটিউটের পরিচালক এই পদক উপাচার্যের কাছে হস্তান্তর করেন, যা ৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে গ্রহণ করা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ইনস্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস (IFESCU) 'পরিবেশ বিষয়ক শিক্ষা ও প্রচার' ক্যাটাগরিতে প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে জাতীয় পরিবেশ পদক ২০২৫ অর্জন করেছে। রবিবার (১২ জুলাই ২০২৬) ইনস্টিটিউটের পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন এই পদক, সনদ ও ক্রেস্ট চবি উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল্-ফোরকানের কাছে হস্তান্তর করেন, যেখানে ইনস্টিটিউটের সব শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় দেশে পরিবেশ বিজ্ঞান শিক্ষা, বনবিদ্যা শিক্ষা, গবেষণা ও পরিবেশ সচেতনতা বিস্তারে দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিষ্ঠানটিকে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননার জন্য নির্বাচিত করে। এর আগে গত ৯ জুলাই বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে পদকটি গ্রহণ করেন প্রফেসর মোশাররফ হোসেন। পুরস্কার হিসেবে দুই তোলা ওজনের স্বর্ণপদকের সমমূল্যের অর্থ, পঞ্চাশ হাজার টাকা, একটি ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
উপাচার্য প্রফেসর আল্-ফোরকান বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান বৃদ্ধিতে অবদান রাখায় ইনস্টিটিউটের প্রশংসা করেন এবং আগামী পাঁচ বছরে পঁচিশ কোটি বৃক্ষরোপণের সরকারি লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইনস্টিটিউটকে কার্যকর নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) ও ইনস্টিটিউটের বরিষ্ঠ শিক্ষক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আল-আমীন উপস্থিত ছিলেন।
পদক প্রদানকালে প্রধানমন্ত্রী ইনস্টিটিউটের কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজ নেন। পরিচালক জানান, প্রধানমন্ত্রীর পিতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে এই ইনস্টিটিউটের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয় এবং তাঁর মাতা প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বর্তমান কমপ্লেক্স উদ্বোধন করেন। এ বছর ইনস্টিটিউটের বনবিদ্যা প্রোগ্রামের ৫০ বছর এবং পরিবেশ বিজ্ঞান প্রোগ্রামের ২৫ বছর পূর্তি হয়েছে, যার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন হবে আগামী ২৫-২৬ ডিসেম্বর, এবং সে অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন পরিচালক।
মিয়াওয়াকি ফরেস্ট নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহের প্রেক্ষিতে তাঁকে জানানো হয়, নেদারল্যান্ডসভিত্তিক তেইজিন আরামিডের কার্বন অফসেট প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৫০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে ক্যাম্পাসে দেশের প্রথম পরীক্ষামূলক ও শিক্ষণকেন্দ্রিক মিয়াওয়াকি ফরেস্ট স্থাপন করেছে ইনস্টিটিউট। প্রধানমন্ত্রী তা সরেজমিনে দেখতে আসার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
চবির পাহাড়ি ক্যাম্পাসে ১৯৮৩ সাল থেকে প্রায় ৬০০ একর জুড়ে দীর্ঘমেয়াদি বনায়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও কার্বন শোষণের সবুজ পরিমণ্ডল গড়ে উঠেছে। বর্তমানে বনবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষা-গবেষণা পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থী-পরিচালিত Youth Volunteer for Environment, Earthen ও GreenWave ক্লাবগুলো বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিবেশ শিক্ষা দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিচ্ছে।