বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে জোয়ারের সময় চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন ও চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রামের ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। এতে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের গরুভাঙা, মধ্য চালিতাবুনিয়া, বিবির হাওলা, চালিতাবুনিয়া বাজার ও চিনাবুনিয়া এবং চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রাম প্লাবিত হয়। এছাড়া উপজেলার বেড়িবাঁধের বাহিরের বিভিন্ন নিচু এলাকাও জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়। পরে দুপুর দেড়টার দিকে ভাটা শুরু হলে ধীরে ধীরে পানি নামতে থাকে।
জোয়ারের পানিতে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও বাড়ির আঙিনা তলিয়ে যায়। অনেকের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে।
মধ্য চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা রুমন গাজী বলেন, স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে প্রায় ৪ ফুট বেশি পানি উঠেছে। রাস্তাঘাট ও বাড়িঘরে পানি উঠে গেছে। অনেকের পুকুরের মাছ ভেসে গেছে। অনেকের মতো আমার ঘরেও রান্নাবান্না হয়নি। এমন অবস্থায় আমরা আছি; কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ নির্মাণ হচ্ছে না। এমনিতেই নদীভাঙনে আমরা নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে প্রতি বছরই দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। স্থায়ীভাবে বাঁধ সংস্কার না হওয়ায় প্রতিটি অস্বাভাবিক জোয়ারে আতঙ্কে থাকতে হয় তাদের।
স্থানীয়দের দাবি, ভেঙে থাকা বেড়িবাঁধ দ্রুত সংস্কার বা স্থায়ীভাবে নির্মাণ করা না হলে সামনে বর্ষা মৌসুম ও পরবর্তী অস্বাভাবিক জোয়ারে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) খায়রুল হাসান বলেন, জোয়ারের পানিতে চালিতাবুনিয়াসহ উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার খবর পেয়েছি। চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ ভেঙে থাকার কারণেই লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড যাতে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেয়, সেই বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলব।