চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রী ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় যুবকের মৃত্যুদণ্ড
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর বেলা ১১টার দিকে শিশুটি তার বোন ও আরও কয়েকজন প্রতিবেশি শিশুর সঙ্গে একটি মাঠে শাক তুলতে যায়। সেখানে ফটিক ওই শিশুটিকে আরও শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে পাশের একটি ভুট্টাখেতে নিয়ে যায় এবং অন্যদের সেখানে অপেক্ষা করতে বলে।
দীর্ঘ সময় পর সে একা ফিরে এলে শিশুটির বোন তার কথা জানতে চায়। তখন ফটিক জানায়, সে একটু পরেই আসবে। এরপর সে দ্রুত ভ্যান নিয়ে চলে যায়।
বাড়ি ফিরে ঘটনাটি জানালে শিশুর মা ও প্রতিবেশীরা মাঠে গিয়ে ভুট্টাখেতে শিশুটির গলাকাটা ও রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা ২০২৩ সালের ২২ ডিসেম্বর অজ্ঞাতপরিচয় আসামিদের বিরুদ্ধে জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জীবননগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর জীবননগরের গয়েশপুর গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে একমাত্র আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, মামলা চলাকালে আসামি ফটিক চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এছাড়া তার ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টও পজিটিভ আসে। চার্জশিট ও ডিএনএ রিপোর্টসহ উপস্থাপিত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত এ রায় দেন।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট এম. এম. শাহজাহান মুকূল রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, `রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সর্বমোট ৩১ জন সাক্ষী উপস্থাপন করা হয়। ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, আসামির জবানবন্দি এবং ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট সব মিলিয়ে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত মতে আদালত সন্তুষ্ট হয়ে আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড এবং দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। এই রায়ে বাদী তথা রাষ্ট্রপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে বলে আমি মনে করি।'