ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

রাকসু-শিবির নেতাদের বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর

কর্মসূচিটি ‘সাধারণ শিক্ষার্থীদের’ ব্যানারে আয়োজিত হলেও এতে অংশগ্রহণকারীদের বেশিরভাগই ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মী। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আগামী সোমবার পর্যন্ত তারা গণস্বাক্ষর নেবেন বলে জানিয়েছেন। একই দাবিতে ও ব্যানারে বুধবারও তারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিলেন। মানববন্ধনে শাখা ছাত্রদলের সভাপতিসহ শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। সোমবারের কর্মসূচিতেও রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহীসহ শীর্ষ নেতারা স্বাক্ষর করেছেন। ছাত্রদলের নেতাদের দাবি, এ কর্মসূচিটি মূলত সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদ্যোগ এবং ছাত্রদল নেতারা একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশ করেছেন। গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করা ব্যাংকিং ও ইনস্যুরেন্স বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে খুবই ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের রাকসু প্রতিনিধিসহ শিবির নেতাকর্মীরা কয়েক দফা বেধড়ক মারধর করেছে। এ ঘটনায় আমরা বুধবার মানববন্ধন করেছি এবং উপাচার্যের কাছে তাদের বিচারসহ ৫ দাবিতে স্মারকলিপি দিয়েছিলাম। আজকে সেই দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করছি। এই গণস্বাক্ষরের ভিত্তিতে আমরা আবার প্রশাসনের কাছে পেশ করব। এই কর্মসূচি আগামী সোমবার পর্যন্ত চলমান থাকবে। গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে স্বাক্ষর করে রাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, আমরা তো এমন রাকসু চাইনি। আমরা এমন রাকসু চেয়েছিলাম যা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করবে এবং শিক্ষার্থীদের যেকোনো প্রয়োজনে পাশে এসে দাঁড়াবে; কিন্তু সেই রাকসু আজ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, তাদের আহত ও নির্যাতন করছে এবং বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দিচ্ছে। নিরুপায় শিক্ষার্থীরা আজ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা বা রাকসু ভবনেও নিরাপদ নয়, উল্টো হামলার শিকার হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও সোচ্চার হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে এই সহিংসতা ও অপরাজনীতি অবিলম্বে বন্ধ করা উচিত। কর্মসূচিতে ছাত্রদল নেতাদের উপস্থিতির বিষয়ে তিনি বলেন, এ কর্মসূচিটি মূলত সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিজস্ব উদ্যোগ এবং ছাত্রদল নেতারা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে প্রথমত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে তাদের এই আন্দোলন ও দাবির প্রতি পূর্ণ একাত্মতা ও সংহতি প্রকাশ করেছে। শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিন বিশ্বাস এষা স্বাক্ষর শেষে বলেন, শিক্ষার্থীদের কাছে লাইব্রেরি মানে প্রার্থনা কক্ষের মতো, যেখানে আমরা জ্ঞানচর্চা করি। সেখানে রাকসু এবং শিবিরের চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা এসে যেভাবে হামলা চালিয়েছে তা কখনো মেনে নেওয়া যায় না। তারা পড়াশোনার মাঝখানে এসে মারামারি করে, এমনকি এই হামলা যারা প্রতিহত করতে গেছে তারা তাদের ওপরও হামলা চালিয়েছে। এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে আমি একজন শিক্ষার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়ে স্বাক্ষর করেছি এবং তাদের বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

রাকসু-শিবির নেতাদের বিচারের দাবিতে গণস্বাক্ষর