ঢাকা    মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস (সাধারণ সম্পাদক) সালাউদ্দিন আম্মারসহ ছাত্রশিবিরের মারধরের শিকার হয়েছেন তিন শিক্ষার্থী। এ ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

রাবিতে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা তদন্তে কমিটি



রাবিতে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা তদন্তে কমিটি
রাবিতে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা তদন্তে কমিটি

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দফায় দফায় মারধরের ঘটনায় পূর্বাপর তথ্য উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

কমিটিকে আগামী ১০ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমকে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. গোলাম ছাদিক, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুল হক, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম ও ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এ নাঈম ফারুকী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, সংস্কৃত বিভাগের এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও ক্যাম্পাস ছাড়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে একই বিভাগের শিক্ষার্থী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত রোববার রাতে ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান তার কার্যালয়ে অভিযুক্তদের নিয়ে পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন।

বৈঠকে মহসিন আলমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আনাস, হাসিব এবং সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসান। অভিযোগ অস্বীকারের একপর্যায়ে তারা প্রক্টরের সঙ্গে উচ্চবাচ্যে জড়িয়ে পড়েন।

সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর দপ্তরে আবার বৈঠক হয়। বৈঠকে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন নেতা আনাসকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী বলে অভিযোগ করেন। এ সময় তার মোবাইল ফোনে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা করে সবাইকে প্রক্টর দপ্তর থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এর কিছুক্ষণ পর রাকসু ভবনে গিয়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বিএম নাজমুস সাকিবের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে আনাস, হাসিব, মাহমুদুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এতে নাজমুস সাকিব আহত হন। পরে আনাস, হাসিব ও মাহমুদুল কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের সামনে অবস্থান নিলে সেখানে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তাঁরা পাঠকক্ষের ভেতরে আশ্রয় নেন। পরে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা পাঠকক্ষে ঢুকে তাদের বেধড়ক মারধর করেন।

হামলা ঠেকাতে এগিয়ে আসা কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি, শিক্ষক, পুলিশ ও উপস্থিত শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচারের দাবিতে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও মারধরের ঘটনায় একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে ‘সন্ত্রাসী কায়দায়’ শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।

এদিকে মারধরের শিকার তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুইজনকে নিষিদ্ধ ‘ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের’ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সোমবার রাতে নগরের মতিহার থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেন। এদিকে রাকসু ও শিবির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রক্টরের কার্যালয় এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে মারধরের ঘটনাকে ‘মব ভায়োলেন্স’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে বিচারের দাবি জানিয়েছে ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস এবং মাহমুদুল হাসান।

এ ব্যাপারে নগরের মতিহার থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম কবির আজ গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে আগের করা একটি মামলায় ওই দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে দুইজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিষয় : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

The Campus Times online

মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬


রাবিতে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা তদন্তে কমিটি

প্রকাশের তারিখ : ২৮ জুলাই ২০২৬

featured Image

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দফায় দফায় মারধরের ঘটনায় পূর্বাপর তথ্য উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশের জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

কমিটিকে আগামী ১০ কর্ম দিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমকে।

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. গোলাম ছাদিক, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুল হক, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম ও ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এ নাঈম ফারুকী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা যায়, সংস্কৃত বিভাগের এক ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও ক্যাম্পাস ছাড়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে একই বিভাগের শিক্ষার্থী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গত রোববার রাতে ওই ছাত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান তার কার্যালয়ে অভিযুক্তদের নিয়ে পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেন।

বৈঠকে মহসিন আলমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আনাস, হাসিব এবং সংস্কৃত বিভাগের মাহমুদুল হাসান। অভিযোগ অস্বীকারের একপর্যায়ে তারা প্রক্টরের সঙ্গে উচ্চবাচ্যে জড়িয়ে পড়েন।

সোমবার দুপুরে বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর দপ্তরে আবার বৈঠক হয়। বৈঠকে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারসহ কয়েকজন নেতা আনাসকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী বলে অভিযোগ করেন। এ সময় তার মোবাইল ফোনে ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে তোলা ছবি দেখিয়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা করে সবাইকে প্রক্টর দপ্তর থেকে বের করে দেওয়া হয়।

এর কিছুক্ষণ পর রাকসু ভবনে গিয়ে রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক বিএম নাজমুস সাকিবের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে আনাস, হাসিব, মাহমুদুলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এতে নাজমুস সাকিব আহত হন। পরে আনাস, হাসিব ও মাহমুদুল কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের পাঠকক্ষের সামনে অবস্থান নিলে সেখানে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তাঁরা পাঠকক্ষের ভেতরে আশ্রয় নেন। পরে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীরা পাঠকক্ষে ঢুকে তাদের বেধড়ক মারধর করেন।

হামলা ঠেকাতে এগিয়ে আসা কয়েকজন সাধারণ শিক্ষার্থীও মারধরের শিকার হন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি, শিক্ষক, পুলিশ ও উপস্থিত শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার সময়ও তাদের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বিচারের দাবিতে রাকসু ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা প্রশাসন ভবনের সামনে অবস্থান নেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার ও মারধরের ঘটনায় একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে ‘সন্ত্রাসী কায়দায়’ শিক্ষার্থীদের মারধরের ঘটনায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রদল।

এদিকে মারধরের শিকার তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুইজনকে নিষিদ্ধ ‘ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের’ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। সোমবার রাতে নগরের মতিহার থানা পুলিশ তাদের গ্রেফতার করেন। এদিকে রাকসু ও শিবির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে প্রক্টরের কার্যালয় এবং কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে ঢুকে মারধরের ঘটনাকে ‘মব ভায়োলেন্স’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়ে বিচারের দাবি জানিয়েছে ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল বাম ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. আনাস এবং মাহমুদুল হাসান।

এ ব্যাপারে নগরের মতিহার থানার ওসি মোহাম্মদ গোলাম কবির আজ গণমাধ্যমকে বলেন, ছাত্রলীগের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে আগের করা একটি মামলায় ওই দুই শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে দুইজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
রাবিতে দুই শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনা তদন্তে কমিটি
0:00 0:00
1.0x