চৌদ্দশত শহীদ পরিবার, ৩০ হাজার আহত যোদ্ধা, নেমে আসবে, ফাঁসি কার্যকর করা পর্যন্ত আমরা রাজপথে অবস্থান করবো।
সোমবার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে এনসিপির উদ্যোগে ‘শহীদ পরিবার ও আহতদের কণ্ঠে জনতার এক দফা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, চব্বিশের তিন তারিখে শহীদ মিনার থেকে এক দফার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। এক দফা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে আজকে আলিফের চোখ যেতো না। পুলিশসহ সব প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ হতো না। গ্রামে গ্রামে চাঁদাবাজি দুর্নীতি হতো না। চুলায় গ্যাস নেই, ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ নেই। দেশের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
সভায় বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর আজ। শহীদ মিনার থেকে এক দফা ঘোষণা হয়েছিল। এই ঐতিহাসিক দিনটি আমরা শহীদ পরিবার ও আহতদের সাথে কাটাতে চাই। কারণ আমরা মনে করি, এক দফার আসল কারিগর জুলাইয়ের শহীদ ও আহত যোদ্ধারা।
নাহিদ বলেন, তিন তারিখ জনগণ চূড়ান্ত ঘোষণা দিয়েছিল। সে ঘোষণায় ছিল শেখ হাসিনার পদত্যাগ এবং ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পতন। এক দফা আংশিক অর্জিত হয়েছে। পুরোটা হয়নি। দুঃখজনক ভাবে আন্দোলনে যারা আমাদের সাথে ছিল তারা এর বিরোধিতা করেছে।
তিনি বলেন, পরিবর্তন একটাই হয়েছে, তারেক রহমান লন্ডন থেকে এসে প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। গত দুই বছর দেশে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারেক রহমান ক্ষমতায় এসেছে পাঁচ মাস হচ্ছে। কিন্তু গত দুই বছর বিএনপির ভূমিকা ছিল। সংস্কারের বিপক্ষে তারা ভূমিকা রেখেছে।
নাহিদ আরও বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আমরা আন্দোলন করিনি। আমরা ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপের ঘোষণা করেছিলাম। আমরা এদেশকে আবার কোনো স্বৈরতন্ত্র, দুর্নীতি, চাঁদাবাজির স্বর্গরাজ্য হতে দেবো না।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মূখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় নারীশক্তির সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু, মূখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম, শহীদ জাবিরের মা রোকেয়া বেগমসহ শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহত যোদ্ধাদের প্রতিনিধিগণ।