‘‘মা, আমি মিছিলে যাচ্ছি। যদি বেঁচে না ফিরি তবে কষ্ট না পেয়ে গর্বিত হয়ো।’’ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের হৃদয়স্পর্শী সেই চিঠির ফলক উন্মোচন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। সোমবার (৩ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আনাস হলে এ ফলক উন্মোচন করা হয়।
চিঠিতে শহীদ আনাস তার মায়ের উদ্দ্যশে বলেন, ‘মা, আমি মিছিলে যাচ্ছি। আমি নিজেকে আর আটকিয়ে রাখতে পারলাম না। সরি আম্মুজান। তোমার কথা অমান্য কোরে (করে) বের হোলাম (হলাম)। স্বার্থপরের মতো ঘরে বোসে (বসে) থাকতে পারলাম না। আমাদের ভাই রা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য কাফনের কাপড় মাথায় বেধে (বেঁধে) রাজপথে নেমে সংগ্রাম কোরে (করে) যাচ্ছে। অকাতরে নিজেদের জীবন বিষর্জন (বিসর্জন) দিচ্ছে। একটি প্রতিবন্ধি কিশোর, ৭ বছরের বাচ্চা, ন্যাংরা মানুষ যদি সংগ্রামে নামতে পারে, তাহলে আমি কেনো বোসে (বসে) থাকবো (থাকব) ঘরে। একদিন তো মরতে হবেই। তাই মৃত্যুর ভয় কোরে (করে) স্বার্থপরের মতো করে বোসে (বসে) না থেকে সংগ্রামে নেমে গুলি খেয়ে বীরের মতো মৃত্যুও অধিক শ্রেষ্ঠ। যে অন্যের জন্য নিজের জীবনকে বিলিয়ে দেয় সেই প্রকৃত মানুষ। আমি যদি বেচে (বেঁচে) না ফিরি তবে কষ্ট না পেয়ে গর্বিত হয়ো। জীবনের প্রতিটি ভুলের জন্য ক্ষমা চাই।’
শহীদ আনাসের চিঠির ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তার বাবা সাহরিয়ার খান পলাশ বলেন, ৪ আগস্ট রাত ৩টা পর্যন্ত আনাস আমাদের সাথে টিভিতে আন্দোলনের খবর দেখেছিল। পরদিন অনেক সকালে সে কাউকে না বলে বাসা থেকে মিছিলের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যায়। আনাসের ছোটো ভাই সকাল ১০টার দিকে চিঠিটি প্রথমে দেখে তাঁর আম্মুকে দেখায়। খবর পেয়ে আমরা ২টার দিকে হাসপাতালে যায়। কিছু পুলিশ আনাসের লাশ গুম করতে চেয়েছিল। তখন আন্দোলনকারীরা পুলিশের সাথে লড়াই করে লাশটি এনে লুকিয়ে রাখে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ আনাসের নামে হলের নামকরণ এবং চিঠির ফলক উন্মোচনের জন্য আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই। এটি খুবই মহৎ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শহীদ আনাসের দেশপ্রেম সম্পর্কে জানতে পারবে।
ফলক উন্মোচনের সময় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী। এছাড়াও শহীদ আনাসের বাবা সাহরিয়া খান পলাশ, ছোটো ভাই সাফওয়ান খান, নানা সাইদুল রহমান বাদলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন৷