ঢাকা    সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
The Campus Times online

ইবিতে শিবির নেতাকে মারধর, ক্যাম্পাসে অস্ত্রের মহড়া



ইবিতে শিবির নেতাকে মারধর, ক্যাম্পাসে অস্ত্রের মহড়া
ইবিতে শিবির নেতাকে মারধর, ক্যাম্পাসে অস্ত্রের মহড়া

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা ছাত্রদল নেতা কর্তৃক ছাত্রশিবিরের নেতাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টায় দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এই ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে উভয়পক্ষের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলীনুর রহমান। ভুক্তভোগী দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও হল শিবিরের সেক্রেটারি কাজী জুহায়ের।


জানা যায়, এদিন দুপুর পৌনে ২টার দিকে পরীক্ষা শেষে হলে খাবার খেতে আসেন কাজী জুহায়ের। তিনি হলের গেট পেরিয়ে করিডোরে পৌঁছলে অভিযুক্ত আলীনুর হঠাৎ এসে জুহায়েরকে চড়-থাপ্পড় শুরু করে। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও আলীনূর তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। পরে সে হলের ২১৭ নং কক্ষে চলে যায়। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশিত হয়েছে। এর পরপরই শিবির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত হয়ে আলীনূরের কক্ষ ভাঙতে যায়। এসময় তারা রুমের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে তাদের সরিয়ে নেয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডি উভয়পক্ষের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে হল অফিসে আলোচনায় বসেন। এসময় ভুক্তভোগী জুহায়ের সেখানে উপস্থিত হলে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা অলীনূরকে রুম থেকে আনতে গেলে শিবির কর্মীদের উত্তেজনায় তাকে বের করতে না পারলে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ সভা ত্যাগ করেন। বের হতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে উচ্চবাচ্য ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে অলীনূরকে পুলিশী সহায়তায় প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে নিতে গেলে শিবির কর্মীরা তার উপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি মারে এবং গাড়ির কাঁচ ভেঙে ফেলে। এ ঘটনার পরপরই বিকেল চারটার গাড়ি আটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করে ছাত্রদল। সেখানে রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে বহিরাগতদের মহড়া দিতে দেখা যায়। একইসঙ্গে লাঠিসোটা হাতে জিয়া মোড়ে অবস্থান নেয় শিবির। সাড়ে চারটার দিকে ছাত্রদল প্রধান ফটক খুলে দেয়। সর্বশেষ এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে দেশীয় অস্ত্র হাতে শোডাউন দিচ্ছে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন হল পকেট গেট ও আজিজ হল পকেট গেটে অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় জামায়াত ও শিবির কর্মীরা।        


ভুক্তভোগী কাজী জুহায়ের বলেন, আমি আজ পরীক্ষা শেষে এক বন্ধুর সঙ্গে হলে যাচ্ছিলাম। আমার পায়ের লিগামেন্টে সমস্যার কারণে ক্রাচে ভর করে আস্তে আস্তে যাচ্ছি। এসময় আলীনূর আচমকা এসে আমাকে থাপ্পড় শুরু করে। পূর্বে তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধও ছিলো না। কেন তিনি এই কাজ করেছে তা আমি জানিনা। আমি হতভম্ব হয়ে তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলে— তুই বেয়াদব তাই মারছি। যা পারিস করিস। আমার ইচ্ছা হইছে তাই মারছি।


অভিযুক্ত আলীনূর বলেন, আমি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বেয়াদব বলি। পরে তিনি আমাকে গালি দেয়। এসময় আমি তাকে থাপ্পড় দেই। তবে তার সাথে আমার পূর্বে কোনো সমস্যা ছিলো না। 


ছাত্রদল আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, বিষয়টি সমাধানে প্রক্টর অফিসে আলোচনা চলছে। 


ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, আমাদের হল সেক্রেটারির ওপর ছাত্রদল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা করেছে। শান্ত ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে ছাত্রদলের বহিরাগতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়েও ক্যাম্পাসে মহড়া দিয়েছে। এমন ন্যাক্কারজনক হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।


প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, বিষয়টি সমাধানে উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনা চলছে।

The Campus Times online

সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ইবিতে শিবির নেতাকে মারধর, ক্যাম্পাসে অস্ত্রের মহড়া

প্রকাশের তারিখ : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা ছাত্রদল নেতা কর্তৃক ছাত্রশিবিরের নেতাকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর পৌনে ২টায় দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে এই ঘটনা ঘটে। এতে ক্যাম্পাসে উভয়পক্ষের মাঝে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আলীনুর রহমান। ভুক্তভোগী দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও হল শিবিরের সেক্রেটারি কাজী জুহায়ের।


জানা যায়, এদিন দুপুর পৌনে ২টার দিকে পরীক্ষা শেষে হলে খাবার খেতে আসেন কাজী জুহায়ের। তিনি হলের গেট পেরিয়ে করিডোরে পৌঁছলে অভিযুক্ত আলীনুর হঠাৎ এসে জুহায়েরকে চড়-থাপ্পড় শুরু করে। পরে অন্য শিক্ষার্থীরা এসে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করলেও আলীনূর তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। পরে সে হলের ২১৭ নং কক্ষে চলে যায়। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজও প্রকাশিত হয়েছে। এর পরপরই শিবির নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে উত্তেজিত হয়ে আলীনূরের কক্ষ ভাঙতে যায়। এসময় তারা রুমের জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা এসে তাদের সরিয়ে নেয়। পরে প্রক্টরিয়াল বডি উভয়পক্ষের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে হল অফিসে আলোচনায় বসেন। এসময় ভুক্তভোগী জুহায়ের সেখানে উপস্থিত হলে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা অলীনূরকে রুম থেকে আনতে গেলে শিবির কর্মীদের উত্তেজনায় তাকে বের করতে না পারলে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ সভা ত্যাগ করেন। বের হতে গেলে উভয়পক্ষের মধ্যে উচ্চবাচ্য ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে অলীনূরকে পুলিশী সহায়তায় প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে নিতে গেলে শিবির কর্মীরা তার উপর চড়াও হয়ে কিল-ঘুষি মারে এবং গাড়ির কাঁচ ভেঙে ফেলে। এ ঘটনার পরপরই বিকেল চারটার গাড়ি আটকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করে ছাত্রদল। সেখানে রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র হাতে বহিরাগতদের মহড়া দিতে দেখা যায়। একইসঙ্গে লাঠিসোটা হাতে জিয়া মোড়ে অবস্থান নেয় শিবির। সাড়ে চারটার দিকে ছাত্রদল প্রধান ফটক খুলে দেয়। সর্বশেষ এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় খুলনা-কুষ্টিয়া মহাসড়কে দেশীয় অস্ত্র হাতে শোডাউন দিচ্ছে স্থানীয় বিএনপি ও ছাত্রদল। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন হল পকেট গেট ও আজিজ হল পকেট গেটে অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় জামায়াত ও শিবির কর্মীরা।        


ভুক্তভোগী কাজী জুহায়ের বলেন, আমি আজ পরীক্ষা শেষে এক বন্ধুর সঙ্গে হলে যাচ্ছিলাম। আমার পায়ের লিগামেন্টে সমস্যার কারণে ক্রাচে ভর করে আস্তে আস্তে যাচ্ছি। এসময় আলীনূর আচমকা এসে আমাকে থাপ্পড় শুরু করে। পূর্বে তার সঙ্গে আমার কোনো বিরোধও ছিলো না। কেন তিনি এই কাজ করেছে তা আমি জানিনা। আমি হতভম্ব হয়ে তাকে কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বলে— তুই বেয়াদব তাই মারছি। যা পারিস করিস। আমার ইচ্ছা হইছে তাই মারছি।


অভিযুক্ত আলীনূর বলেন, আমি তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বেয়াদব বলি। পরে তিনি আমাকে গালি দেয়। এসময় আমি তাকে থাপ্পড় দেই। তবে তার সাথে আমার পূর্বে কোনো সমস্যা ছিলো না। 


ছাত্রদল আহ্বায়ক মাসুদ রুমী মিথুন বলেন, বিষয়টি সমাধানে প্রক্টর অফিসে আলোচনা চলছে। 


ছাত্রশিবির সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, আমাদের হল সেক্রেটারির ওপর ছাত্রদল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে হামলা করেছে। শান্ত ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে ছাত্রদলের বহিরাগতরা দেশীয় অস্ত্র নিয়েও ক্যাম্পাসে মহড়া দিয়েছে। এমন ন্যাক্কারজনক হামলার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।


প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, বিষয়টি সমাধানে উভয়পক্ষকে নিয়ে আলোচনা চলছে।




The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
ইবিতে শিবির নেতাকে মারধর, ক্যাম্পাসে অস্ত্রের মহড়া
0:00 0:00
1.0x