মহামান্য রাষ্ট্রপতি কর্তৃক জাবি সিন্ডিকেট সদস্য পদে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনুকে মনোনীত করতে উপাচার্য বরাবর আবেদন জানিয়েছেন সাবেক জাকসু ও ছাত্রদল নেতারা। তিনি জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন।
আবেদনপত্রে অধ্যাপক জামাল উদ্দিন রুনুর দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক, সাংগঠনিক, একাডেমিক ও প্রশাসনিক অবদানের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৮৯ সালে জাবিতে ভর্তি হওয়ার পর প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত থেকে ফুল নিয়ে ছাত্রদলে যোগদানের মাধ্যমে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন। পরবর্তীতে তিনি ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫ মেয়াদে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত সিনেট সদস্য এবং ২০২৩ সাল থেকে পুনরায় নির্বাচিত সিনেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে তিনি জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
একাডেমিক অর্জনের ক্ষেত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তাত্ত্বিক বিজ্ঞান বিভাগ থেকে প্রথম শ্রেণীতে অনার্স ও মাস্টার্স শেষ করার পর নরওয়ের সাইন্স এন্ড টেকনোলজি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দ্বিতীয় মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তীতে ২০০৩ সালে জাবির পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
আবেদন বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের শাসন আমলে ক্যাম্পাসের দলাদলি, অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তিনি সবসময় সোচ্চার ছিলেন। বিশেষ করে ২০১৯ সালে জাবিতে ১,৪০০ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্পে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে অন্যতম সংগঠক ছিলেন তিনি। এছাড়া ২০২৪ সালের 'জুলাই গণ-অভ্যুত্থান'-এ জাবি ও সাভারকেন্দ্রিক আন্দোলনের সমন্বয় এবং শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় তিনি দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখেন।
শিক্ষার্থী কল্যাণ, সামাজিক ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে কাজ করার ক্ষেত্রেও তাঁর অবদানের কথা বলা হয়; যার মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্টে ফেনীর বন্যায় জাবি শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা অন্যতম। পাশাপাশি, পারিবারিক সূত্রে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আত্মীয়তার সম্পর্ক থাকলেও তা ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য ব্যবহার না করে নিজ যোগ্যতায় নেতৃত্বে এগিয়ে গেছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধ্যাপক রুনুর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, সততা ও একাগ্রতা বিবেচনা করে তাঁকে রাষ্ট্রপতির মনোনীত সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে চূড়ান্ত করার জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট নাম পাঠানোর জোর অনুরোধ জানানো হয়।
এ প্রস্তাবপত্রে স্বাক্ষর করেছেন ছাত্রদল মনোনীত জাকসুর একাধিক প্রাক্তন ভিপি, জিএস, এজিএস এবং সাবেক ছাত্রদলের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক সহ প্রাক্তন ছাত্রনেতৃবৃন্দ।
এ বিষয়ে জাবি ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফরিদ মিয়া আরমান জানান, অধ্যাপক জামাল উদ্দিন দুঃসময়ে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী সব আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছেন। দীর্ঘ দিন জাতীয়তাবাদী আদর্শ ধারণ করার কারণেই তিনি এতদিন ধরে উপেক্ষিত হয়েছেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের বৃহত্তর স্বার্থেই তাঁকে সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।