ঢাকা    শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬, ১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
The Campus Times online

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে সংঘাত সৃষ্টি হওয়ায় রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

টেকনাফ সীমান্তের ওপারে বাড়ছে সংঘাত, এপারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা



টেকনাফ সীমান্তের ওপারে বাড়ছে সংঘাত, এপারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা
সীমান্তে দায়িত্ব পালন করছেন বিজিবি সদস্যরা

বুধবার (১ জুলাই) ও বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেমে থেমে টানা দুই দিন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্য পুনরুদ্ধারে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। বিমান হামলার তীব্রতায় কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের বাড়িঘরসহ বিভিন্ন গ্রাম ভূমিকম্পের মতো কেঁপে ওঠে। তবে শুক্রবার মংডু শহরের ভেতরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও এপারে তেমন কোনো বিকট শব্দ শোনা যায়নি।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে বসবাসরত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় সেখানে বসবাসকারী রোহিঙ্গারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তারা সেখানে নিরাপদ বোধ না করলে এপারে নতুন করে অনুপ্রবেশের শঙ্কা রয়েছে। এর আগেও সংঘাতের কারণে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছিল।

আলীখালী ক্যাম্পের শরণার্থী আজগর আলী বলেন, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার মংডু শহরে আরাকান আর্মির দখলে থাকা শহর ও গ্রাম পুনরুদ্ধারে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। সামনেও এ সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। এতে অন্যদের পাশাপাশি রোহিঙ্গা মুসলিমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আরেক রোহিঙ্গা ইদ্রিস মিয়া বলেন, মংডুতে থাকা আমার এক আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনেছি, সেখানকার পরিস্থিতি এখন খুবই উত্তপ্ত। সহজে কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। অনেক রোহিঙ্গা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন।

তিনি আরও বলেন, গত এক বছর আগে সংঘাতের সময় ধাপে ধাপে উখিয়া ও টেকনাফ  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছিলেন। আমরা চাই, মিয়ানমারের রাখাইনে থাকা আমাদের রোহিঙ্গা ভাইয়েরা যেন নিরাপদে থাকতে পারেন।

শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তের খুব কাছেই মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত। বলা যায়, এখান থেকে আরাকান আর্মির পোস্টও দেখা যায়। গত বুধবার শাহপরীর দ্বীপের ওপারে রাখাইনে বিমান হামলার বিস্ফোরণের তীব্রতায় আমাদের বাড়িঘর ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠেছিল। আমরা ভীষণ ভয় ও আতঙ্কে ছিলাম।

হোয়াইক্যং সীমান্তের বাসিন্দা আব্দুল গফুর বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘাত শুরু হলেই আমাদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সীমান্তের কাছে বসবাস করার কারণে যেকোনো সংঘর্ষের প্রভাব সরাসরি আমাদের ওপর পড়ে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় এক বছর আগে সংঘাতের সময় ওপার থেকে ছোড়া গুলি এসে আমাদের ঘরসহ আশপাশের একাধিক বাড়িতে আঘাত হেনেছিল। তখন পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছিল। তাই এখন আবার সংঘাতের খবর শুনলেই পুরোনো সেই ভয়াবহ স্মৃতি মনে পড়ে যায়।

এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, চলমান সংঘাতের কারণে নতুন করে বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। তাই সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কার্যকরভাবে সীমান্ত সিল করে রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বলছে, যেকোনো ধরণের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ লক্ষ্যে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়া সীমান্ত এলাকায় বিশেষ টহল, নাফনদীতে নৌ টহল এবং পুরো সীমান্তজুড়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বিষয় : কক্সবাজার বিজিবি রোহিঙ্গা টেকনাফ

The Campus Times online

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬


টেকনাফ সীমান্তের ওপারে বাড়ছে সংঘাত, এপারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ জুলাই ২০২৬

featured Image

বুধবার (১ জুলাই) ও বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) থেমে থেমে টানা দুই দিন মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী রাখাইন রাজ্য পুনরুদ্ধারে আরাকান আর্মির অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালায়। বিমান হামলার তীব্রতায় কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তের বাড়িঘরসহ বিভিন্ন গ্রাম ভূমিকম্পের মতো কেঁপে ওঠে। তবে শুক্রবার মংডু শহরের ভেতরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটলেও এপারে তেমন কোনো বিকট শব্দ শোনা যায়নি।

কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফে বসবাসরত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় সেখানে বসবাসকারী রোহিঙ্গারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আরাকান আর্মি ও মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর সংঘাতের কারণে রোহিঙ্গাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

তারা সেখানে নিরাপদ বোধ না করলে এপারে নতুন করে অনুপ্রবেশের শঙ্কা রয়েছে। এর আগেও সংঘাতের কারণে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছিল।

আলীখালী ক্যাম্পের শরণার্থী আজগর আলী বলেন, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার মংডু শহরে আরাকান আর্মির দখলে থাকা শহর ও গ্রাম পুনরুদ্ধারে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে। সামনেও এ সংঘাত আরও তীব্র হতে পারে। এতে অন্যদের পাশাপাশি রোহিঙ্গা মুসলিমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

আরেক রোহিঙ্গা ইদ্রিস মিয়া বলেন, মংডুতে থাকা আমার এক আত্মীয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে জেনেছি, সেখানকার পরিস্থিতি এখন খুবই উত্তপ্ত। সহজে কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। অনেক রোহিঙ্গা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন।

তিনি আরও বলেন, গত এক বছর আগে সংঘাতের সময় ধাপে ধাপে উখিয়া ও টেকনাফ  রোহিঙ্গা ক্যাম্পে লক্ষাধিক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করেছিলেন। আমরা চাই, মিয়ানমারের রাখাইনে থাকা আমাদের রোহিঙ্গা ভাইয়েরা যেন নিরাপদে থাকতে পারেন।

শাহপরীর দ্বীপের বাসিন্দা শাহ আলম বলেন, শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তের খুব কাছেই মিয়ানমারের রাখাইন সীমান্ত। বলা যায়, এখান থেকে আরাকান আর্মির পোস্টও দেখা যায়। গত বুধবার শাহপরীর দ্বীপের ওপারে রাখাইনে বিমান হামলার বিস্ফোরণের তীব্রতায় আমাদের বাড়িঘর ভূমিকম্পের মতো কেঁপে উঠেছিল। আমরা ভীষণ ভয় ও আতঙ্কে ছিলাম।

হোয়াইক্যং সীমান্তের বাসিন্দা আব্দুল গফুর বলেন, মিয়ানমারের রাখাইনে সংঘাত শুরু হলেই আমাদের মধ্যে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সীমান্তের কাছে বসবাস করার কারণে যেকোনো সংঘর্ষের প্রভাব সরাসরি আমাদের ওপর পড়ে।

তিনি আরও বলেন, প্রায় এক বছর আগে সংঘাতের সময় ওপার থেকে ছোড়া গুলি এসে আমাদের ঘরসহ আশপাশের একাধিক বাড়িতে আঘাত হেনেছিল। তখন পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাতে হয়েছিল। তাই এখন আবার সংঘাতের খবর শুনলেই পুরোনো সেই ভয়াবহ স্মৃতি মনে পড়ে যায়।

এ বিষয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও মিয়ানমারে বাংলাদেশের সাবেক কূটনীতিক অবসরপ্রাপ্ত মেজর এমদাদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, চলমান সংঘাতের কারণে নতুন করে বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। তাই সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কার্যকরভাবে সীমান্ত সিল করে রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

এদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বলছে, যেকোনো ধরণের পরিস্থিতি মোকাবিলায় সীমান্তজুড়ে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস. এম. অনীক চৌধুরী বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের অযথা আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

টেকনাফ ব্যাটালিয়নের (২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্তের ওপারে বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হলেও বাংলাদেশের সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এ লক্ষ্যে টেকনাফ পৌরসভার নাইট্যংপাড়া, বরইতলী ও জাদিমোড়া সীমান্ত এলাকায় বিশেষ টহল, নাফনদীতে নৌ টহল এবং পুরো সীমান্তজুড়ে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
টেকনাফ সীমান্তের ওপারে বাড়ছে সংঘাত, এপারে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কা
0:00 0:00
1.0x