ঢাকা    শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

ভারতের মহারাষ্ট্র শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার (টিইটি) প্রশ্নফাঁস মামলার মূল অভিযুক্ত বিজেন্দ্র কুমার গুপ্তকে শনিবার (২৫ জুলাই) বিহার থেকে গ্রেপ্তার করেছে থানে সিটি পুলিশ। এরই মধ্যে গ্রেপ্তারের পর তাকে পুনে বিমানবন্দরে আনা হয়েছে। সেখান থেকে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তাকে ভিওয়ান্ডিতে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মহারাষ্ট্রে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার



মহারাষ্ট্রে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
প্রধান অভিযুক্ত গ্রেপ্তার। কোলাজ ইত্তেফাক

 জানা যায়, তিনি মহারাষ্ট্র থেকে পালিয়ে ভুয়া নাম-পরিচয়ে বিহারে বসবাস করছিলেন।

এর আগে,  কোচিং সেন্টারের সাবেক শিক্ষক বিজেন্দ্র গুপ্তের বিরুদ্ধে (একাধিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার আসামি) করা মামলার তদন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। রাজ্য সরকার এখনো পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করেনি।

শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে রাজ্য সরকারের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দাদা ভুসের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেছে। এমন এক পরিস্থিতিতে বিজেন্দ্রকে গ্রেপ্তার করা হলো।

এর আগে, গত ৫ জুলাই মহারাষ্ট্র টিইটি-২০২৬ প্রশ্নফাঁসের তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) উত্তর প্রদেশের আগ্রাভিত্তিক একটি ছাপাখানার তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ছাপানোর সময়ই তারা সেটি ফাঁস করেছিলেন। ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১০ জনে। সে সময় পলাতক ছিলেন বিজেন্দ্র গুপ্ত।

গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন- নরেশকুমার পুরানচাঁদ মাহোর (৩৫), সঞ্জয়কুমার সুরেশচন্দ্র চন্দ্র (৪৪) এবং বাবুলাল নারায়ণসিং কুশওয়াহা (৪৫)। তাদের দিল্লি থেকে এনে ভিওয়ান্ডি আদালতে হাজির করা হলে আদালত ৯ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (জোন ২) পবন বানসদ বলেন, পুলিশ বিজেন্দ্রর অবস্থান শনাক্ত করে তাকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করেছে। পবন বলেন, ‘আজ সকালে আমরা তাকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করেছি। আমরা তাঁকে থানেতে নিয়ে আসছি। তাঁকে হেফাজতে নিতে আবেদন করার জন্য আদালতে হাজির করব।’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র কিনতে যারা চুক্তি করেছিলেন এবং পরে আত্মগোপনে চলে গেছেন, তাদের মধ্যে আরও কয়েকজনকে তারা খুঁজছে। যাদের আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা এখনো বিচার বিভাগীয় হেফাজতে আছেন। আমরা শিগগিরই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেব।’

পরীক্ষার দুই দিন আগে এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। থানে সিটি পুলিশ ভিওয়ান্ডির এক বাসিন্দার কাছ থেকে গোপন এক তথ্য পায়। ওই ব্যক্তি জানান, তিন ব্যক্তি টিইটি প্রশ্নপত্র বিক্রির জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিশ্চিত হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র ছিল। এরপর বিহার থেকে রাজীব কুমার ও আকাশ কুমার এবং হরিয়ানা থেকে ধীরজ সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিষয়টি তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা পরে এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস হিসেবে আগ্রার একটি ছাপাখানা ‘মহিম পত্রন প্রাইভেট লিমিটেড’-কে চিহ্নিত করেন। সেখানকার দুই বর্তমান ও এক সাবেক কর্মী জুতার সোলের ভেতরে গোপন প্রশ্নপত্রের কপি লুকিয়ে বাইরে পাচার করেছিলেন বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, বিজেন্দ্র গুপ্ত মাত্র আট হাজার টাকার বিনিময়ে ওই তিনজনকে এই কাজের জন্য ব্যবহার করেছিলেন।

গোপনীয়তা বজায় রাখতে রাজ্য সরকার বহু বছর ধরে মহারাষ্ট্রের বাইরে প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে আসছিল। তাই এসব প্রশ্নপত্র আগ্রায় ছাপা হয়েছিল। ছাপাখানার পরিচয় কেবল পরীক্ষা পরিষদের প্রধানই জানতেন।

এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া এক অভিযুক্তের কাছ থেকে তিনটি গুলি (লাইভ কার্টিজ) উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ভিওয়ান্ডির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) বিজয় মারাঠে বলেন, এক অভিযুক্তের কাছ থেকে তিনটি লাইভ কার্টিজ উদ্ধার হওয়ায় তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এগুলো তিনি কোথা থেকে সংগ্রহ করেছিলেন এবং কী উদ্দেশ্যে নিজের কাছে রেখেছিলেন, সেটিও আমরা তদন্ত করে দেখছি।

বিষয় : ভারত গ্রেপ্তার

The Campus Times online

শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬


মহারাষ্ট্রে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুলাই ২০২৬

featured Image

 জানা যায়, তিনি মহারাষ্ট্র থেকে পালিয়ে ভুয়া নাম-পরিচয়ে বিহারে বসবাস করছিলেন।

এর আগে,  কোচিং সেন্টারের সাবেক শিক্ষক বিজেন্দ্র গুপ্তের বিরুদ্ধে (একাধিক প্রশ্নপত্র ফাঁসের মামলার আসামি) করা মামলার তদন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক। রাজ্য সরকার এখনো পরীক্ষার নতুন তারিখ ঘোষণা করেনি।

শিক্ষার্থী সংগঠনগুলো প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে রাজ্য সরকারের স্কুল শিক্ষামন্ত্রী দাদা ভুসের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন জোরদার করেছে। এমন এক পরিস্থিতিতে বিজেন্দ্রকে গ্রেপ্তার করা হলো।

এর আগে, গত ৫ জুলাই মহারাষ্ট্র টিইটি-২০২৬ প্রশ্নফাঁসের তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) উত্তর প্রদেশের আগ্রাভিত্তিক একটি ছাপাখানার তিন কর্মীকে গ্রেপ্তার করে।

অভিযোগ, প্রশ্নপত্র ছাপানোর সময়ই তারা সেটি ফাঁস করেছিলেন। ওই তিনজনকে গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে মামলায় মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছিল ১০ জনে। সে সময় পলাতক ছিলেন বিজেন্দ্র গুপ্ত।

গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন- নরেশকুমার পুরানচাঁদ মাহোর (৩৫), সঞ্জয়কুমার সুরেশচন্দ্র চন্দ্র (৪৪) এবং বাবুলাল নারায়ণসিং কুশওয়াহা (৪৫)। তাদের দিল্লি থেকে এনে ভিওয়ান্ডি আদালতে হাজির করা হলে আদালত ৯ জুলাই পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন।

ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (জোন ২) পবন বানসদ বলেন, পুলিশ বিজেন্দ্রর অবস্থান শনাক্ত করে তাকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করেছে। পবন বলেন, ‘আজ সকালে আমরা তাকে বিহার থেকে গ্রেপ্তার করেছি। আমরা তাঁকে থানেতে নিয়ে আসছি। তাঁকে হেফাজতে নিতে আবেদন করার জন্য আদালতে হাজির করব।’

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র কিনতে যারা চুক্তি করেছিলেন এবং পরে আত্মগোপনে চলে গেছেন, তাদের মধ্যে আরও কয়েকজনকে তারা খুঁজছে। যাদের আগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তারা এখনো বিচার বিভাগীয় হেফাজতে আছেন। আমরা শিগগিরই মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেব।’

পরীক্ষার দুই দিন আগে এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। থানে সিটি পুলিশ ভিওয়ান্ডির এক বাসিন্দার কাছ থেকে গোপন এক তথ্য পায়। ওই ব্যক্তি জানান, তিন ব্যক্তি টিইটি প্রশ্নপত্র বিক্রির জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে নিশ্চিত হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নপত্র ছিল। এরপর বিহার থেকে রাজীব কুমার ও আকাশ কুমার এবং হরিয়ানা থেকে ধীরজ সিংকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে বিষয়টি তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) গঠন করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা পরে এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের উৎস হিসেবে আগ্রার একটি ছাপাখানা ‘মহিম পত্রন প্রাইভেট লিমিটেড’-কে চিহ্নিত করেন। সেখানকার দুই বর্তমান ও এক সাবেক কর্মী জুতার সোলের ভেতরে গোপন প্রশ্নপত্রের কপি লুকিয়ে বাইরে পাচার করেছিলেন বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, বিজেন্দ্র গুপ্ত মাত্র আট হাজার টাকার বিনিময়ে ওই তিনজনকে এই কাজের জন্য ব্যবহার করেছিলেন।

গোপনীয়তা বজায় রাখতে রাজ্য সরকার বহু বছর ধরে মহারাষ্ট্রের বাইরে প্রশ্নপত্র ছাপিয়ে আসছিল। তাই এসব প্রশ্নপত্র আগ্রায় ছাপা হয়েছিল। ছাপাখানার পরিচয় কেবল পরীক্ষা পরিষদের প্রধানই জানতেন।

এদিকে গ্রেপ্তার হওয়া এক অভিযুক্তের কাছ থেকে তিনটি গুলি (লাইভ কার্টিজ) উদ্ধার করেছে পুলিশ।

ভিওয়ান্ডির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) বিজয় মারাঠে বলেন, এক অভিযুক্তের কাছ থেকে তিনটি লাইভ কার্টিজ উদ্ধার হওয়ায় তদন্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এগুলো তিনি কোথা থেকে সংগ্রহ করেছিলেন এবং কী উদ্দেশ্যে নিজের কাছে রেখেছিলেন, সেটিও আমরা তদন্ত করে দেখছি।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
মহারাষ্ট্রে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার
0:00 0:00
1.0x