ঢাকা    মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

রাজনৈতিক নেতৃত্বে মৌলিক পরিবর্তন না আনলে পুলিশ বিভাগে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাবে না



রাজনৈতিক নেতৃত্বে মৌলিক পরিবর্তন না আনলে পুলিশ বিভাগে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাবে না
রাজনৈতিক নেতৃত্বে মৌলিক পরিবর্তন না আনলে পুলিশ বিভাগে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাবে না

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বে মৌলিক পরিবর্তন না আনলে পুলিশ বিভাগে ‘ফেরেশতা’ বসালেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাবে না। আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনই হলো রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। দেশের কোনো থানায় যদি এক দলের লোক সুযোগ পায় আর অন্য দলের লোক বঞ্চিত হয়, তবে তাকে আইনের শাসন বলা যায় না। বিগত ১৭ বছরে পুলিশ সম্পর্কে জনগণের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ছিল না। তবে এই বিভাগেই অনেক ব্রিলিয়ান্ট এবং সত্যিকার অর্থের ভালো অফিসার আছেন। তাদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্ব রাজনৈতিক নেতৃত্বের। 

রোববার (০২ আগস্ট) দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) গগণ হরকরা গ্যালারিতে ‘চব্বিশের জুলাই: জনআকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গ্রীন ফোরামের উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। 

তিনি আরো বলেন, নাগরিক সমাজের দায়িত্ব হলো সরকারকে বাধ্য করা, যাতে পুলিশ জনগণের বন্ধু হিসেবে কাজ করতে পারে। বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি দিনের জন্যও দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের সমন্বিত দায়িত্ব। একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য রাষ্ট্রকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে, যেখানে দাড়িওয়ালা, দাড়ি ছাড়া, আস্তিক, নাস্তিক— সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষের নাগরিক অধিকার ও আইনের সুরক্ষা নিশ্চিত থাকবে। 

ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন অনন্য, তেমনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ আমরা সবাই দেখিনি, কিন্তু ২০২৪-এর বিপ্লব আমাদের নিজেদের জীবনের সরাসরি অভিজ্ঞতা। এ দেশের জুলাই যোদ্ধারা আরও অন্তত ৫০ বছর বেঁচে থাকবেন, তাই এই ইতিহাসকে কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না। আমাদের সম্মিলিত স্মৃতি বা কালেক্টিভ মেমোরির অংশ হিসেবে এই জুলাইকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। দেশের জন্য কাজ করার সময় তরুণ ও ছাত্র সমাজকে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আমরা সবসময় সেই রক্তদান ও আত্মত্যাগের কথা মনে রাখি। এখানে কোনো ব্যক্তিগত অহংকার বা ‘আমি’র স্থান নেই, বরং ‘আমরা’র ভাবনা বাড়াতে হবে। এই আন্দোলনের আসল হিরোরা হলেন সেই লাখ লাখ ‘আনসাং হিরোজ’, যারা কোনো প্রচার ছাড়াই দেশের ক্রান্তিলগ্নে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে ঘরে ফিরে গেছেন। নেতৃস্থানীয়দের কখনোই তাদের ভুলে যাওয়া চলবে না।


তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক মুক্তির একমাত্র পথ হলো সুশিক্ষা, এর কোনো বিকল্প নেই। জনগোষ্ঠী সুশিক্ষিত হলে দেশে আর কখনোই স্বৈরাচার বাসা বাঁধতে পারবে না। বিগত ১৬-১৭ বছরের স্বৈরশাসনের একটা বড়ো কারণ ছিল—বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক থেকে শুরু করে কোনো স্তরেই সুশিক্ষা ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরাই ছিলেন স্বৈরাচারের সবচেয়ে বড়ো সহায়ক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন নামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্যানেল তৎকালীন স্বৈরাচারের প্রত্যেকটি দুষ্কর্মকে বৈধতা দিয়েছে। যে শিক্ষা ভালোকে ভালো আর মন্দকে মন্দ বলতে শেখায় না, তা আসলে সম্পূর্ণ মূল্যহীন। তাই বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় একটা মস্ত বড়ো প্যারাডাইম শিফটের বা আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।

সেমিনারে ইবি গ্রীন ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন। 

সেমিনারে গ্রীন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ওবাইদুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান।

এসময় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ নাজিমুদ্দিন, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানূর রহমান, অধ্যাপক ড. আবু সিনা, ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আলিনূর রহমান, দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদ মুহাম্মদ রেজওয়ান, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. নছির উদ্দিন মিঝি, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান ও বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ছাত্র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

The Campus Times online

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬


রাজনৈতিক নেতৃত্বে মৌলিক পরিবর্তন না আনলে পুলিশ বিভাগে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাবে না

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেছেন, রাজনৈতিক নেতৃত্বে মৌলিক পরিবর্তন না আনলে পুলিশ বিভাগে ‘ফেরেশতা’ বসালেও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাবে না। আইনের সঠিক প্রয়োগ এবং বৈষম্যহীন সমাজ গঠনই হলো রাষ্ট্রের মূল ভিত্তি। দেশের কোনো থানায় যদি এক দলের লোক সুযোগ পায় আর অন্য দলের লোক বঞ্চিত হয়, তবে তাকে আইনের শাসন বলা যায় না। বিগত ১৭ বছরে পুলিশ সম্পর্কে জনগণের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ছিল না। তবে এই বিভাগেই অনেক ব্রিলিয়ান্ট এবং সত্যিকার অর্থের ভালো অফিসার আছেন। তাদের কাজের উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করার দায়িত্ব রাজনৈতিক নেতৃত্বের। 

রোববার (০২ আগস্ট) দুপুরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) গগণ হরকরা গ্যালারিতে ‘চব্বিশের জুলাই: জনআকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান বক্তার বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গ্রীন ফোরামের উদ্যোগে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। 

তিনি আরো বলেন, নাগরিক সমাজের দায়িত্ব হলো সরকারকে বাধ্য করা, যাতে পুলিশ জনগণের বন্ধু হিসেবে কাজ করতে পারে। বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি দিনের জন্যও দুদক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারেনি। জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দুদককে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা রাষ্ট্র ও নাগরিকদের সমন্বিত দায়িত্ব। একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য রাষ্ট্রকে অবশ্যই অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে, যেখানে দাড়িওয়ালা, দাড়ি ছাড়া, আস্তিক, নাস্তিক— সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষের নাগরিক অধিকার ও আইনের সুরক্ষা নিশ্চিত থাকবে। 

ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ যেমন অনন্য, তেমনি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গুরুত্ব অপরিসীম। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ আমরা সবাই দেখিনি, কিন্তু ২০২৪-এর বিপ্লব আমাদের নিজেদের জীবনের সরাসরি অভিজ্ঞতা। এ দেশের জুলাই যোদ্ধারা আরও অন্তত ৫০ বছর বেঁচে থাকবেন, তাই এই ইতিহাসকে কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না। আমাদের সম্মিলিত স্মৃতি বা কালেক্টিভ মেমোরির অংশ হিসেবে এই জুলাইকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। দেশের জন্য কাজ করার সময় তরুণ ও ছাত্র সমাজকে লক্ষ্য রাখতে হবে যেন আমরা সবসময় সেই রক্তদান ও আত্মত্যাগের কথা মনে রাখি। এখানে কোনো ব্যক্তিগত অহংকার বা ‘আমি’র স্থান নেই, বরং ‘আমরা’র ভাবনা বাড়াতে হবে। এই আন্দোলনের আসল হিরোরা হলেন সেই লাখ লাখ ‘আনসাং হিরোজ’, যারা কোনো প্রচার ছাড়াই দেশের ক্রান্তিলগ্নে নিজেদের দায়িত্ব পালন করে ঘরে ফিরে গেছেন। নেতৃস্থানীয়দের কখনোই তাদের ভুলে যাওয়া চলবে না।


তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের সামগ্রিক মুক্তির একমাত্র পথ হলো সুশিক্ষা, এর কোনো বিকল্প নেই। জনগোষ্ঠী সুশিক্ষিত হলে দেশে আর কখনোই স্বৈরাচার বাসা বাঁধতে পারবে না। বিগত ১৬-১৭ বছরের স্বৈরশাসনের একটা বড়ো কারণ ছিল—বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক থেকে শুরু করে কোনো স্তরেই সুশিক্ষা ছিল না। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরাই ছিলেন স্বৈরাচারের সবচেয়ে বড়ো সহায়ক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন নামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্যানেল তৎকালীন স্বৈরাচারের প্রত্যেকটি দুষ্কর্মকে বৈধতা দিয়েছে। যে শিক্ষা ভালোকে ভালো আর মন্দকে মন্দ বলতে শেখায় না, তা আসলে সম্পূর্ণ মূল্যহীন। তাই বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় একটা মস্ত বড়ো প্যারাডাইম শিফটের বা আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে।

সেমিনারে ইবি গ্রীন ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন। 

সেমিনারে গ্রীন ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ওবাইদুল ইসলামের সঞ্চালনায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দাওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. কামরুজ্জামান।

এসময় কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মাদ নাজিমুদ্দিন, হিসাববিজ্ঞান ও তথ্যপদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মিজানূর রহমান, অধ্যাপক ড. আবু সিনা, ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আলিনূর রহমান, দা’ওয়াহ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. শহীদ মুহাম্মদ রেজওয়ান, আল-কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. নছির উদ্দিন মিঝি, আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান ও বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ছাত্র নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
রাজনৈতিক নেতৃত্বে মৌলিক পরিবর্তন না আনলে পুলিশ বিভাগে কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাবে না
0:00 0:00
1.0x