ঢাকা    মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩
The Campus Times online

১৮ বছরেও কাটেনি বেরোবির আবাসন সংকট, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা



১৮ বছরেও কাটেনি বেরোবির আবাসন সংকট, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও আবাসন সংকট কাটেনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ৮২৪ জন। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন মেস ও বাসাবাড়িতে থাকতে হচ্ছে। এতে বাড়তি বাসাভাড়া, আর্থিক চাপ ও নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের ২২টি বিভাগে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। তাঁদের আবাসনের জন্য রয়েছে চারটি আবাসিক হল। এর মধ্যে ১০ তলাবিশিষ্ট খালেদা জিয়া ছাত্রী হল নির্মাণাধীন। বাকি তিনটি হলের মধ্যে দুটি ছেলেদের এবং একটি মেয়েদের জন্য নির্ধারিত।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিজয়-২৪ হলে আসনসংখ্যা ২৪০টি, শহিদ মুখতার ইলাহী হলে ২৪০টি এবং শহীদ ফেলানী হলে ৩৪৪টি। এই তিনটি হলের মোট আসনসংখ্যা ৮২৪টি। অন্যদিকে, প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থীর তুলনায় আবাসিক আসনসংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে আবাসিক সুবিধার বাইরে থাকতে হচ্ছে।

আবাসন সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের আশপাশের বিভিন্ন মেস ও বাসাবাড়িতে থাকতে হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, বাড়তি ভাড়া গুনতে গিয়ে পড়াশোনার ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে পাবনাসহ দূরবর্তী জেলা থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ব্যয় বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। এ সুযোগে মেস ও বাসাবাড়ির মালিকেরা ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

পাবনা জেলা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থী  ইনজামাম আরাফিন বলেন, “আমাদের হলের সংকটের পাশাপাশি ক্লাসরুমেরও সংকট রয়েছে, ফলে বেশি টাকা দিয়ে মেসে থাকতে হচ্ছে। ছয় মাসের সেমিস্টার শেষ করতে আট থেকে নয় মাস সময় লাগছে। এতে আমরা হতাশায় ভুগছি।”

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, আবাসন ও শ্রেণিকক্ষের সংকটের পাশাপাশি সেমিস্টার সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় লাগায় তাঁদের থাকা-খাওয়ার খরচও বেড়ে যাচ্ছে। এতে পরিবার থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিতে হচ্ছে অনেককে। পাশাপাশি মেস ও বাসাবাড়ির ভাড়া বৃদ্ধির কারণে তাঁদের আর্থিক চাপও বাড়ছে।

এদিকে, আবাসন ও একাডেমিক অবকাঠামোর সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ১০ তলাবিশিষ্ট খালেদা জিয়া ছাত্রী হলের নির্মাণকাজ রয়েছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় একাডেমিক ভবন এবং হেয়াত মামুদ ভবন চারতলা থেকে ছয়তলায় উন্নীত করার কাজও চলছে বলে জানা গেছে।

তবে এসব অবকাঠামো নির্মাণ ও সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের আবাসন ও শ্রেণিকক্ষের চাহিদা কতটা পূরণ হবে, তা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত আবাসন সংকট নিরসন, মেসভাড়ার চাপ কমানো এবং পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

The Campus Times online

মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬


১৮ বছরেও কাটেনি বেরোবির আবাসন সংকট, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

প্রকাশের তারিখ : ১২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

প্রতিষ্ঠার ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও আবাসন সংকট কাটেনি রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি)। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে আবাসিক সুবিধা পাচ্ছেন মাত্র ৮২৪ জন। ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে বিভিন্ন মেস ও বাসাবাড়িতে থাকতে হচ্ছে। এতে বাড়তি বাসাভাড়া, আর্থিক চাপ ও নানা ধরনের ভোগান্তির মুখে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ, তথ্য ও প্রকাশনা বিভাগ সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছয়টি অনুষদের ২২টি বিভাগে প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। তাঁদের আবাসনের জন্য রয়েছে চারটি আবাসিক হল। এর মধ্যে ১০ তলাবিশিষ্ট খালেদা জিয়া ছাত্রী হল নির্মাণাধীন। বাকি তিনটি হলের মধ্যে দুটি ছেলেদের এবং একটি মেয়েদের জন্য নির্ধারিত।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিজয়-২৪ হলে আসনসংখ্যা ২৪০টি, শহিদ মুখতার ইলাহী হলে ২৪০টি এবং শহীদ ফেলানী হলে ৩৪৪টি। এই তিনটি হলের মোট আসনসংখ্যা ৮২৪টি। অন্যদিকে, প্রায় আট হাজার শিক্ষার্থীর তুলনায় আবাসিক আসনসংখ্যা অত্যন্ত সীমিত। ফলে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীকে আবাসিক সুবিধার বাইরে থাকতে হচ্ছে।

আবাসন সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের ক্যাম্পাসের আশপাশের বিভিন্ন মেস ও বাসাবাড়িতে থাকতে হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, বাড়তি ভাড়া গুনতে গিয়ে পড়াশোনার ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে পাবনাসহ দূরবর্তী জেলা থেকে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ব্যয় বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। এ সুযোগে মেস ও বাসাবাড়ির মালিকেরা ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াচ্ছেন বলেও অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।

পাবনা জেলা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থী  ইনজামাম আরাফিন বলেন, “আমাদের হলের সংকটের পাশাপাশি ক্লাসরুমেরও সংকট রয়েছে, ফলে বেশি টাকা দিয়ে মেসে থাকতে হচ্ছে। ছয় মাসের সেমিস্টার শেষ করতে আট থেকে নয় মাস সময় লাগছে। এতে আমরা হতাশায় ভুগছি।”

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, আবাসন ও শ্রেণিকক্ষের সংকটের পাশাপাশি সেমিস্টার সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত সময় লাগায় তাঁদের থাকা-খাওয়ার খরচও বেড়ে যাচ্ছে। এতে পরিবার থেকে অতিরিক্ত অর্থ নিতে হচ্ছে অনেককে। পাশাপাশি মেস ও বাসাবাড়ির ভাড়া বৃদ্ধির কারণে তাঁদের আর্থিক চাপও বাড়ছে।

এদিকে, আবাসন ও একাডেমিক অবকাঠামোর সংকট নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উন্নয়নকাজ চলছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ১০ তলাবিশিষ্ট খালেদা জিয়া ছাত্রী হলের নির্মাণকাজ রয়েছে। পাশাপাশি দ্বিতীয় একাডেমিক ভবন এবং হেয়াত মামুদ ভবন চারতলা থেকে ছয়তলায় উন্নীত করার কাজও চলছে বলে জানা গেছে।

তবে এসব অবকাঠামো নির্মাণ ও সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে শিক্ষার্থীদের আবাসন ও শ্রেণিকক্ষের চাহিদা কতটা পূরণ হবে, তা নিয়ে অপেক্ষায় রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, দ্রুত আবাসন সংকট নিরসন, মেসভাড়ার চাপ কমানো এবং পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
১৮ বছরেও কাটেনি বেরোবির আবাসন সংকট, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা
0:00 0:00
1.0x