নীলফামারীর উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত এক চীনা নাগরিকের সাথে স্থানীয় এক তরুণীর বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিয়ের একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে তিন বছরের চুক্তিতে বিয়ে হয়েছে—এমন দাবি উঠলেও পুলিশ জানিয়েছে, এ বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার সংগলশী এলাকার জুয়েল হোসেনের মেয়ে মাইশা আক্তার জুইয়ের সাথে উত্তরা ইপিজেডে কর্মরত চীনা নাগরিক লিয়াউ জিচুনের পরিচয় হয় কর্মসূত্রে। পরিচয়ের পর তাদের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
গত ১০ জুন আদালতে হলফনামার মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন লিয়াউ জিচুন। ধর্মান্তরের পর তার নাম রাখা হয় ‘নুর মোহাম্মদ’। ৩ লাখ ২৫১ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ করে নগদ ৫ হাজার টাকা পরিশোধের মাধ্যমে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। ১৮ জুন পারিবারিক আয়োজনে বিয়ের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
বিয়ের বিদায় অনুষ্ঠানের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নানা মন্তব্য শুরু হয়। কেউ কেউ দাবি করেন, এটি ভালোবাসার নয়, বরং অর্থের বিনিময়ে নির্দিষ্ট মেয়াদের চুক্তিভিত্তিক বিয়ে। তবে স্থানীয়রা এসব দাবি নাকচ করে বলেন, বিয়েটি পারিবারিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তবে এসব দাবির বিপরীতে স্থানীয় অনেকেই বিয়েটিকে স্বাভাবিক ও পারিবারিক বিয়ে হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
স্থানীয় যুবক লিটন বলেন, ‘তারা দু’জন ভালোবেসেই বিয়ে করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তার অনেকটাই বাস্তবতার সাথে মিল নেই।’
এ বিষয়ে কনের পরিবারের সদস্য ছলেমান হোসেন বলেন, ‘ফোনে এ বিষয়ে কিছু বলতে চাই না।’
সচেতন মহলের মতে, বিদেশী নাগরিকের সাথে বিয়ের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ নিশ্চিত করা জরুরি। যাচাই ছাড়া মন্তব্য বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।
নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান জানান, ‘এ ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আদালতের হলফনামার মাধ্যমে আইনগতভাবে বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তিভিত্তিক বিয়ের দাবির বিষয়ে কোনো তথ্য বা প্রমাণ আমাদের কাছে নেই। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’