ঢাকা    শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
The Campus Times online

সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের গোলাখালি খাল এলাকায় প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দস্যুদলের একটি ট্রলারে আগুন ধরে যায়। গোলাগুলির শব্দে পাশের গ্রামবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় অনেকেই গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র গিয়ে আশ্রয় নেয়।

সুন্দরবনে গভীর রাতে গোলাগুলি, আতঙ্কে গ্রামবাসী



সুন্দরবনে গভীর রাতে গোলাগুলি, আতঙ্কে গ্রামবাসী
প্রতীকী ছবি

 

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের তেতুলতলারচর গ্রামের পাশে এ ঘটনা ঘটে। সুন্দরবনের গোলাখালি এলাকা ওই গ্রাম থেকে মাত্র দুইশ’ মিটার দূরে। গ্রামবাসীর ধারণা, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দল বনদস্যুর মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। তবে অনেকেই ধারণা করছেন, কোস্টগার্ডের সঙ্গে দস্যুদলের গুলিবিনিময় হতে পারে।

তেতুলতলারচর গ্রামের বাসিন্দা ইয়াসিন গাজী জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় তার। তড়িঘড়ি ঘর থেকে বের হয়ে একের পর এক শব্দ শুনতে পান। এ সময় গ্রামের নারী পুরুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তারা একে একে সবাই ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। রাতে অনেক নারী তাদের ছোট বাচ্চাদের নিয়ে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। 

রেহেনা খাতুন নামে এক নারী বলেন, ‘প্রথমে মনে করিছিলাম, আমাগে বাড়ির দিকে কেউ গুলি করতিছে। তাড়াতাড়ি ছাওয়াল-মাইয়ে নিয়ে ঘর থেইকে বেরিয়ে বাপের বাড়ির দিকি ছুটিছি।’ 

রাতে তিনি প্রায় দুই কিলোমটিার দুরে কালিকাপুর গ্রামে তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান খোকন জানিয়েছেন, রাতে গুলির শব্দ শুনে তিনি লোকজন নিয়ে নদীর ঘাটের দিকে এগিয়ে যান। সে সময় নদীতে জোয়ার ছিল। গ্রামের অনেকেই বাগদার রেণু শিকারের জন্য নদীতে অবস্থান করছিলেন। তাদের মাধ্যমে জানতে পারেন, বনদস্যু দুলাভাই বাহিনী ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ চলছে। গোলাগুলি শুরু হলে সেখানে অবস্থানরত জেলেরা নিরাপদ স্থানে চলে আসেন। রাত সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় রাত ১টা পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।  

আজ সকালে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামের বাড়ি মহেশ্বরীপুর গ্রামেই। বেশ কিছুদিন ধরে ওই বাহিনী সুন্দরবনে সক্রিয় রয়েছে। বনের অধিপাত্য ধরে রাখতে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন দস্যুবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুলাভাই বাহিনী। প্রথমে ভেবেছিলেন গত রাতের ঘটনাটিও তার অংশ। তবে এলাকায় কোস্টগার্ডের আনাগোনা দেখে অনেকেই মনে করছেন দস্যুদলের সঙ্গে কোস্টগার্ডের গোলাগুলি হয়েছে। তবে কোস্টগার্ড এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি।

সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শরিফুল ইসলাম বলেন, রাতে গোলাগুলির ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরে কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয়েছে। সে বিষয়ে অভিযান চলছে। অভিযান শেষ হলে বিস্তারিত জানাতে পারব।

বিষয় : খুলনা সুন্দরবন কয়রা

The Campus Times online

শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬


সুন্দরবনে গভীর রাতে গোলাগুলি, আতঙ্কে গ্রামবাসী

প্রকাশের তারিখ : ২৬ জুন ২০২৬

featured Image

 

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে খুলনার কয়রা উপজেলার মহেশ্বরীপুর ইউনিয়নের তেতুলতলারচর গ্রামের পাশে এ ঘটনা ঘটে। সুন্দরবনের গোলাখালি এলাকা ওই গ্রাম থেকে মাত্র দুইশ’ মিটার দূরে। গ্রামবাসীর ধারণা, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই দল বনদস্যুর মধ্যে গোলাগুলি হয়েছে। তবে অনেকেই ধারণা করছেন, কোস্টগার্ডের সঙ্গে দস্যুদলের গুলিবিনিময় হতে পারে।

তেতুলতলারচর গ্রামের বাসিন্দা ইয়াসিন গাজী জানান, রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় তার। তড়িঘড়ি ঘর থেকে বের হয়ে একের পর এক শব্দ শুনতে পান। এ সময় গ্রামের নারী পুরুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। তারা একে একে সবাই ঘর ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন। রাতে অনেক নারী তাদের ছোট বাচ্চাদের নিয়ে গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র চলে যায়। 

রেহেনা খাতুন নামে এক নারী বলেন, ‘প্রথমে মনে করিছিলাম, আমাগে বাড়ির দিকে কেউ গুলি করতিছে। তাড়াতাড়ি ছাওয়াল-মাইয়ে নিয়ে ঘর থেইকে বেরিয়ে বাপের বাড়ির দিকি ছুটিছি।’ 

রাতে তিনি প্রায় দুই কিলোমটিার দুরে কালিকাপুর গ্রামে তার বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান খোকন জানিয়েছেন, রাতে গুলির শব্দ শুনে তিনি লোকজন নিয়ে নদীর ঘাটের দিকে এগিয়ে যান। সে সময় নদীতে জোয়ার ছিল। গ্রামের অনেকেই বাগদার রেণু শিকারের জন্য নদীতে অবস্থান করছিলেন। তাদের মাধ্যমে জানতে পারেন, বনদস্যু দুলাভাই বাহিনী ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর মধ্যে বন্দুকযুদ্ধ চলছে। গোলাগুলি শুরু হলে সেখানে অবস্থানরত জেলেরা নিরাপদ স্থানে চলে আসেন। রাত সাড়ে ১১টা থেকে প্রায় রাত ১টা পর্যন্ত থেমে থেমে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন তিনি।  

আজ সকালে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামের বাড়ি মহেশ্বরীপুর গ্রামেই। বেশ কিছুদিন ধরে ওই বাহিনী সুন্দরবনে সক্রিয় রয়েছে। বনের অধিপাত্য ধরে রাখতে মাঝেমধ্যে বিভিন্ন দস্যুবাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দুলাভাই বাহিনী। প্রথমে ভেবেছিলেন গত রাতের ঘটনাটিও তার অংশ। তবে এলাকায় কোস্টগার্ডের আনাগোনা দেখে অনেকেই মনে করছেন দস্যুদলের সঙ্গে কোস্টগার্ডের গোলাগুলি হয়েছে। তবে কোস্টগার্ড এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি।

সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) শরিফুল ইসলাম বলেন, রাতে গোলাগুলির ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরে কোস্টগার্ডকে অবহিত করা হয়েছে। সে বিষয়ে অভিযান চলছে। অভিযান শেষ হলে বিস্তারিত জানাতে পারব।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
সুন্দরবনে গভীর রাতে গোলাগুলি, আতঙ্কে গ্রামবাসী
0:00 0:00
1.0x