বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে। তিনি হাতিটির সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেন। তার নির্দেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মাধ্যমে হাতিটিকে ঢাকায় জাতীয় চিড়িয়াখানায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মহাস্থান বন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদশা বাহাদুরকে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে হাতিটিকে ট্রাকে তুলে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ‘বাদশা বাহাদুর’ নামে বগুড়ার শিবগঞ্জের মহাস্থানের একটি হাতি খেলা দেখানোর জন্য নওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় সার্কাস পার্টির কাছে ভাড়া দেওয়া হচ্ছিল। হাতির একটি দাঁত দুর্বৃত্তরা কেটে নিয়েছে। এতে হাতিটি অসুস্থ হয়ে পড়ে। অসুস্থ হাতি দিয়ে রাস্তায় চাঁদাবাজিও করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তার নির্দেশে হাতিটিকে উদ্ধার করে ঢাকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ ব্যাপারে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।
হাতির মালিক শুকুর জানান, তিনি ছয় বছর আগে ১১ লাখ টাকায় সিলেট থেকে হাতিটি কিনে আনে। এরপর এটির নাম দেন ‘বাদশা বাহাদুর’। তিনি হাতিটি বিভিন্ন সার্কাস পার্টিকে ভাড়া দিয়ে আসছিলেন। কয়েক মাস আগে নওগাঁর নিয়ামতপুর এলাকায় একটি সার্কাস পার্টিতে ভাড়ায় গেলে সেখানে বনের মধ্যে দুর্বৃত্তরা হাতির একটি দাঁত কেটে নেয়। এতে হাতিটি অসুস্থ হয়ে পড়লে সার্কাসের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে হাতির খাবার জোগাড় করতে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে যানবাহন আটকে চাঁদা তুলতে থাকেন। আরও পড়ুনআরও পড়ুন‘ছাগলকাণ্ডে’ আলোচিত মতিউরের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ ২১ জুলাই
বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসলে তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে হাতিটির চিকিৎসার নির্দেশ দেন। পরে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে হাতিটি নওগাঁর ধামইরহাট এলাকা থেকে বগুড়ার মহাস্থানে আনা হয়। সেখানে মালিকের উপস্থিতিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিয়াউর রহমান বন বিভাগের মাধ্যমে চিকিৎসার জন্য হাতিটিকে ট্রাকে তুলে ঢাকার মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় পাঠান। এ সময় বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মতলুবর রহমান, বগুড়া সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রায়হান আলী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
ইউএনও জিয়াউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রতি সম্মান জানিয়ে হাতিটির মালিক স্বেচ্ছায় এটি সরকারের জিম্মায় দিয়েছেন। এর পরিপেক্ষিতে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে হাতিটি হস্তান্তর করা হয়েছে। হাতিটিকে শনিবার রাতেই ঢাকায় জাতীয় চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, উন্নত পরিচর্যা এবং উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে। এতে ‘বাদশা বাহাদুর’ সুস্থ ও নিরাপদ জীবন ফিরে পাবে।