আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশের জন্য আবেদনটি অপেক্ষমাণ রেখেছেন। আগামী ১২ জুলাই এ বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গেছে।
অন্য যাদের মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে তাঁরা হলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. আবু জাফর এবং সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
বাদীপক্ষের আইনজীবী তাছলিমা জাহান পপি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, হামের টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহে অবহেলা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণে ব্যর্থতার কারণে দেশে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ওই মৃত্যুগুলোর মধ্যে সাউদা মুসকানের মৃত্যুও অন্তর্ভুক্ত বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ও মার্চের শুরুতে শরীয়তপুর সদরের নয় মাস বয়সী সাউদা মুসকান জ্বরে আক্রান্ত হয়। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা করানোর পর অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় মার্চের প্রথম সপ্তাহে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সেখান থেকে ২২ মার্চ মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সেখানকার চিকিৎসক ও নার্সদের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অসহযোগিতা ও অবহেলার অভিযোগ তুলে আবেদনে বলা হয়, বাদীর স্ত্রীর হাতে ২৬ মার্চ অক্সিজেন সিলিন্ডার ধরিয়ে দিয়ে বাচ্চার মুখে লাগাতে বলা হয়। তবে শিশুর মা ব্যর্থ হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুইপারকে দিয়ে শিশুর মুখে তা লাগিয়ে দেওয়া হয়। এর ঘণ্টা দুয়েক পরে শিশুটি মারা যায়।
মামলার আর্জিতে বলা হয়, শিশুদের টিকার যোগান সময়মতো না থাকা, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়া এবং টিকা কেনা ও তা দেওয়া নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের মারাত্মক খামখেয়ালিপনা এবং অবহেলার কারণে দেশে ছয় শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে সাউদা মুসকান অন্যতম।
উল্লেখ্য, এর আগে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর কয়েকজন উপদেষ্টার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করা হয়েছিল। পরে আদালত সেই মামলাটি খারিজ করে দেন।