ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমদাদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, নিহত শাকিলের স্ত্রী ফারজানা জানিয়েছেন—তাঁর স্বামী পেশায় একজন রিকশাচালক ছিলেন এবং তিনি নিয়মিত হেরোইন সেবন করতেন। দেড় বছর বয়সী এক কন্যাসন্তানকে নিয়ে তাঁরা এতদিন হাজারীবাগ এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তবে বেশ কয়েক মাসের ঘরভাড়া বকেয়া পড়ে যাওয়ায় তিন মাস আগে বাধ্য হয়ে ফারজানা সন্তানকে নিয়ে মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজারে তাঁর বাবার বাসায় চলে যান। সেই থেকে শাকিল পরিবারবিচ্ছিন্ন হয়ে ভাসমান অবস্থায় দিনযাপন করছিলেন।
ওসি আরও বলেন, শাকিলের শরীরে অন্য কোনো আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শাকিল সুধা সদনের একটি ফাঁকা ঘরের দরজার কাঠের আড়ার সঙ্গে গলায় রশি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন।
তিনি সুধা সদনে কেন গেলেন?—এমন প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, সুধা সদনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পাহারা না থাকায় ভবঘুরেদের আনাগোনা ছিল সেখানে। ধারণা করা হচ্ছে, নিরিবিলি পরিবেশ পেয়ে সেখানেই তিনি গলায় ফাঁস লাগিয়েছেন।
শাকিলের ভাই সাইদুল ইসলাম সমকালকে বলেন, আমার ভাই গুরুতর মাদকাসক্ত ছিলেন। গত তিন মাস ধরে পরিবারের কারও সঙ্গে তাঁর কোনো যোগাযোগ ছিল না। তাঁর স্ত্রীর সঙ্গেও খুব একটা কথা হতো না। তিনি কোথায়, কীভাবে থাকতেন, সে বিষয়ে পরিবারের কেউ কিছুই জানতেন না।
পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আজ শনিবার সকাল ১১টার দিকে সুধা সদনের একটি পরিত্যক্ত কক্ষ থেকে ওই যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শুরুতে মরদেহটির পরিচয় না মেলায় প্রযুক্তির সাহায্যে জাতীয় পরিচয়পত্রের আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) পরীক্ষা করে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায় এবং পরবর্তীতে স্বজনদের খবর দেওয়া হয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সুধা সদনে কয়েক দফা হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। সেই থেকেই বাড়িটি সম্পূর্ণ পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।