জানা যায়, সরকারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে তিন দফা বৈঠকের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের কথা জানায় সিজেপি। আলোচনায় সরকারের পক্ষে ছিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে. পি. নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিং। অন্যদিকে সিজেপির প্রতিনিধিদলে ছিলেন প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস, অশুতোষ রাঙ্কাসহ অন্য নেতারা।
বৈঠক শেষে সিজেপির প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রত্যাশায় ‘সদিচ্ছার ভিত্তিতে’ আন্দোলন প্রত্যাহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ককরোচ জনতা পার্টি সদিচ্ছার ভিত্তিতে আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিচ্ছে। সরকারের সঙ্গে যে বিষয়গুলোতে সমঝোতা হয়েছে, সেগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে—এই বিশ্বাস থেকেই আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
গত ৬ জুন দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু করেছিল সিজেপি। নিট (এনইইটি) প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন টানা ৪৯ দিন ধরে চলে।
সংগঠনটির তিনটি প্রধান দাবি ছিল—কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনকারী ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার এবং নিট (এনইইটি) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার পর আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য এক কোটি রুপি ক্ষতিপূরণ।
আজ শনিবার ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর সিজেপি জানায়, তাদের প্রথম দাবি পূরণ হয়েছে।
পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে সংগঠনটি জানায়, সরকারের পক্ষ থেকে তাদের সব দাবি নীতিগতভাবে মেনে নেওয়ায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে দেশব্যাপী আন্দোলন প্রত্যাহার করছে।
সিজেপির দাবি, সমঝোতার অংশ হিসেবে নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস-সংক্রান্ত আত্মহত্যার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকার এবং এনডিএ-শাসিত রাজ্যগুলোতে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করা হবে। ভবিষ্যতেও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে না বলেও সরকার আশ্বাস দিয়েছে।
এ ছাড়া সংগঠনটির পাঁচ দফা পরীক্ষা সংস্কার প্রস্তাব সরকার বিবেচনা করবে এবং এ বিষয়ে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের মধ্যে আরও আলোচনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
সিজেপির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল আন্দোলনকারী ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার। সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস বলেন, ‘আমাদের দ্বিতীয় দাবি ছিল, শুধু দিল্লি নয়, বিজেপি-শাসিত এবং বিজেপি-সমর্থিত সব রাজ্যে আন্দোলনকারী ও আয়োজকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। সরকার এই দাবিও মেনে নিয়েছে।’
সৌরভ দাস বলেন, ‘আমাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দিল্লিতে ১৫ থেকে ২০টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। তিন থেকে চার দিনের মধ্যে আমরা সেগুলোর অনুলিপি হাতে পাব বলে আশা করছি।’