যদিও হিন্দু বিবাহ আইন অনুযায়ী এই ধরনের বিয়ে বেআইনি, তবু এই চারজন দাবি করেছেন বিয়েটি কোনো নাটক নয়, বরং পারস্পরিক সম্মতিতে বাস্তবে সম্পন্ন হয়েছে। এ সংক্রান্ত ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলোতে যুবকটিকে প্রথমে পবিত্র অগ্নিকুণ্ডের চারপাশে সাতবার ঘুরতে এবং তারপরে প্রতিটি কনের সিঁথিতে সিঁদুর পরাতে দেখা যায়।
ভিডিওতে থাকা ব্যক্তিরা কারা?
ওই তিন নারী হলেন আমরোহা জেলার ধোরিয়া গ্রামের সরোজ, সাবিত্রী এবং সন্তোষ। তাদের মধ্যে দুজন আপন বোন এবং তৃতীয়জন তাদের চাচাতো বোন। তবে বেশ কয়েকটি সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে তিনজনকে বোন হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
তিন নারীকে বিয়ে করা যুবকের নাম বিকাশ। তিনি বিক্কু নামেও পরিচিত। তিনি ওই নারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্টের জন্য ক্যামেরাম্যান হিসেবে কাজ করতেন। গত ছয় মাস ধরে ভিডিওগুলোতে তাদের অন-স্ক্রিন স্বামী হিসেবে হাজির হচ্ছিলেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে, অনেক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী বিশ্বাস করেছিলেন যে অনলাইনে কনটেন্ট তৈরি করার জন্য এই অনুষ্ঠানের নাটক সাজানো হয়েছিল। তবে, চারজন পরে ক্যামেরায় উপস্থিত হয়ে বলেন, বিয়েটি আসল ছিল এবং রিলসের জন্য করা হয়নি।
তারা কেন একই ব্যক্তিকে বিয়ে করলেন?
নারীরা জানান, তারা ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে বড় হয়েছেন এবং বিয়ের পর আলাদা হতে চাননি। তারা দাবি করেন, ছোটবেলা থেকে তারা একসঙ্গে বড় হয়েছেন এবং বিয়ের পর আলাদা হতে চাননি। পরিবার অন্য জায়গায় বিয়ের ব্যবস্থা করায় তারা বিষণ্ণ হয়ে পড়েছিলেন। একপর্যায়ে আত্মহত্যার কথাও ভেবেছিলেন। শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর বদলে তারা স্বেচ্ছায় বিকাশকে একসঙ্গে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিকাশও তাদের বন্ধুত্বের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই প্রস্তাবে রাজি হন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের তাদের ট্রোল করা বা গালিগালাজপূর্ণ মন্তব্য পোস্ট করা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বোনদের একজন বলেন, ‘আমরা ছোটবেলা থেকে একসাথে থাকছি এবং আলাদা থাকার কথা কল্পনাও করতে পারতাম না। যখন আমরা বুঝতে পারলাম যে বিয়ে আমাদের আলাদা করে দেবে, তখন আমরা আমাদের জীবন শেষ করে দেওয়ার কথাও ভেবেছিলাম। পরে, আমরা সিদ্ধান্ত নিই যে মরার বদলে, আমরা একসাথে থাকব এবং একজন পুরুষকেই বিয়ে করব। আমরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক এবং স্বেচ্ছায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
জানা গেছে, সরোজ বিটেক (BTech) ডিগ্রিতে পড়ছেন, আর সাবিত্রী ও সন্তোষ দ্বাদশ শ্রেণি পাস করেছেন।
অনলাইনে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে, বোনেরা তাদের বিয়ের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আরেকটি ভিডিও পোস্ট করেছেন। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনীর কথা উল্লেখ করে তারা প্রশ্ন করেন, ‘প্রাচীনকালে রাজা দশরথের তিন রানি ছিলেন। সেটাকে কি অপমান বলে মনে করা হতো?’
বিকাশ বলেন, তিনি এই প্রস্তাবে রাজি হয়েছিলেন কারণ তিনি বুঝতে পেরেছিলেন নারীরা একে অপরের কতটা ঘনিষ্ঠ এবং তিনি তাদের ইচ্ছার সম্মান করতে চেয়েছিলেন।
বিয়ের কথা অস্বীকার করেছে মন্দির কর্তৃপক্ষ
ভিডিওগুলো হাসানপুরের মা চামুণ্ডা মন্দিরে চিত্রায়িত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে, মন্দির প্রশাসন এই কথিত বিয়ের বিষয়ে কোনো কিছু জানার কথা অস্বীকার করেছে।
মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিডিওগুলো রেকর্ড করার সময় সেখানে সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছিল এবং তারা দাবি করেছে, ওই সময় কোনো পুরোহিত বা মন্দিরের কর্মী উপস্থিত ছিলেন না। তারা জানায়, মন্দিরের প্রাঙ্গণে এ ধরনের কোনো অনুষ্ঠান হওয়ার বিষয়ে তারা অবগত ছিল না।
১৯৫৫ সালের হিন্দু বিবাহ আইন বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করেছে। এই আইনের ৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, একটি বৈধ হিন্দু বিবাহ কেবল তখনই হতে পারে যদি বিয়ের সময় উভয় পক্ষের কারও জীবিত স্বামী বা স্ত্রী না থাকে। একজন হিন্দু পুরুষ আইনত একসঙ্গে একাধিক নারীকে বিয়ে করতে পারেন না। প্রথম স্ত্রীর জীবদ্দশায় দ্বিতীয় বিবাহ বাতিল বলে গণ্য হয়।
এই ধরনের বিবাহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ৮২ নম্বর ধারার (পূর্বে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৪ নম্বর ধারা) অধীনে অপরাধমূলক দায়ও বহন করতে পারে।