যেসব শিক্ষার্থী এখনো জার্মান বিশ্ববিদ্যালয়ে চূড়ান্ত ভর্তির সুযোগ পাননি, কিন্তু ভর্তিপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে জার্মানিতে যেতে চান, তাঁরা স্টুডেন্ট অ্যাপ্লিক্যান্ট ভিসার জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই ভিসার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীরা জার্মানিতে প্রবেশ করে কোনো বিশ্ববিদ্যালয়, প্রস্তুতিমূলক কোর্স বা অধ্যয়ন কার্যক্রমে ভর্তির প্রক্রিয়া চালিয়ে যেতে পারবেন। এই ভিসা পাওয়ার অন্যতম প্রধান শর্ত হলো জার্মানিতে অবস্থানকালে নিজের ভরণপোষণের জন্য পর্যাপ্ত ‘ফিন্যান্সিয়াল রিসোর্স’ প্রমাণ করা। পাশাপাশি আবেদনকারীকে প্রমাণ করতে হবে, তাঁর কোনো স্বীকৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা রয়েছে।
এই ভিসা মূলত তাঁদের জন্য, যাঁরা জার্মানিতে পড়াশোনা করতে চান। তবে এখনো চূড়ান্তভাবে ভর্তি নিশ্চিত হননি। এই ভিসার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দেশটিতে অবস্থান করে ভর্তি পরীক্ষা, সাক্ষাৎকার, ভাষা কোর্স বা ভর্তিসংক্রান্ত অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারবেন। জার্মানিতে পৌঁছানোর পর ভর্তির সুযোগ পেলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার উদ্দেশে রেসিডেন্স পারমিটের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
আবেদনকারীকে দুটি পূরণ করা জাতীয় ভিসা আবেদন ফরম এবং জার্মান ভিসা ফটো নির্দেশিকা অনুযায়ী দুটি সাম্প্রতিক বায়োমেট্রিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি জমা দিতে হবে। এ ছাড়া জার্মান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য সক্রিয়ভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন—এ ধরনের তথ্যপ্রমাণ হিসেবে দাখিল করতে হবে। এই প্রমাণ হিসেবে নিম্নলিখিত যেকোনো একটি গ্রহণযোগ্য হবে:
জার্মান কর্তৃপক্ষ আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণকে আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। আবেদনকারী নিম্নলিখিত উপায়ে আর্থিক সক্ষমতা প্রমাণ করতে পারবেন:
স্টুডেন্ট অ্যাপ্লিক্যান্ট ভিসায় জার্মানিতে প্রবেশ করার প্রথম সপ্তাহের মধ্যে শিক্ষার্থীদের স্থানীয় বাসিন্দা নিবন্ধন অফিসে তাঁদের ঠিকানা নিবন্ধন করতে হবে। ভিসার মেয়াদ বজায় রাখতে ভিসাধারীদের স্বাস্থ্যবিমা, আর্থিক সামর্থ্য এবং কোনো জার্মান শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির প্রমাণ দেখাতে বলা হতে পারে।
বেশ কিছু কাগজপত্র প্রয়োজন হলেও আর্থিক সামর্থ্যের প্রমাণই অধিকাংশ আবেদনকারীর জন্য কেন্দ্রীয় শর্ত হিসেবে বিবেচিত হয়। জার্মান কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হতে চায় যে শিক্ষার্থীরা অবস্থানকালে সরকারি তহবিলের ওপর নির্ভর না করেই নিজেদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সক্ষম। অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর কাছে জার্মান স্টুডেন্ট অ্যাপ্লিক্যান্ট ভিসার আবেদনে পর্যাপ্ত অর্থের প্রমাণ দেওয়ার সবচেয়ে সহজলভ্য ও গ্রহণযোগ্য উপায় হিসেবে ‘ব্লকড অ্যাকাউন্ট’ বিবেচিত হয়।
সূত্র: THE CAMPUS TIMES