ঢাকা    রোববার, ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
The Campus Times online

বাড়ছে জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাজেটে কমছে বরাদ্দ



বাড়ছে জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি  বাজেটে কমছে বরাদ্দ
বাড়ছে জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাজেটে কমছে বরাদ্দ

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়লেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় বাজেট বরাদ্দ কমেছে। এ খাতে ব্যয়ের বড় অংশ এখনও প্রকল্পনির্ভর থাকায় দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা গড়ে তোলাও কঠিন হয়ে পড়ছে। 

গতকাল শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য অর্থায়ন’ শীর্ষক সংলাপে এসব তথ্য উঠে আসে। সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি) উদ্যোগে আয়োজিত এ সংলাপে ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু অর্থায়ন: নীতিগত অঙ্গীকার ও আর্থিক বাস্তবতা’ শীর্ষক গবেষণা উপস্থাপিত হয়। গবেষণায় দেখা যায়, দেশের জলবায়ু এবং স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ের ৬০ শতাংশের বেশি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মোট বাজেটের মধ্যে জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ১ দশমিক ৯৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে জাতীয় জলবায়ু বাজেটে স্বাস্থ্য অংশে বরাদ্দ প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রকল্পনির্ভর অর্থায়নের কারণে রোগ নজরদারি, জরুরি প্রস্তুতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জলবায়ু-স্বাস্থ্য গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সহনশীলতা গড়ে তোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো পর্যাপ্ত অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) ২০২৩-২০৫০ এবং স্বাস্থ্য জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় (এইচএনএপি) স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হয়নি। এইচএনএপির হিসাব অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে।

উপকূলীয় নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনুষ্ঠানে ‘নারী ও কিশোরী মেয়েদের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন’ শীর্ষক আরেকটি গবেষণা উপস্থাপন করা হয়। এই গবেষণায় অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক নারী অনিয়মিত মাসিক, তীব্র ব্যথা, মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণের মতো সমস্যার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি গর্ভপাত, প্রি-একলাম্পসিয়া, সংক্রমণ, প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার মতো জটিলতার বিষয়ও উঠে এসেছে। অংশগ্রহণকারী ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণের সীমিত প্রাপ্যতা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক নারীর মধ্যে পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ (পিআইডি) এবং বিভিন্ন গাইনোকোলজিক্যাল সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া গেছে।

বাড়তি বিনিয়োগের আহ্বান সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন এখনও একটি অস্পষ্ট ক্ষেত্র।  স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেলথ প্রমোশন ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. ইকবাল কবির বলেন, বিশ্বব্যাপী মোট জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে যায়।  অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব ড. শাহ আবদুল সাদী বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন আহরণের জন্য আরও সুস্পষ্ট সংজ্ঞা, খাতভিত্তিক মালিকানা এবং তৃতীয় পক্ষীয় যাচাই ব্যবস্থা জরুরি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি এখনও উন্নয়ন পরিকল্পনায় পুরোপুরি মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে অনেক উদ্যোগ বিচ্ছিন্নভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।  সংলাপ শেষে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের জন্য কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে– স্বাস্থ্য জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার অগ্রাধিকারগুলোকে বাজেট প্রক্রিয়ায় আরও জোরালোভাবে অন্তর্ভুক্ত করা, জলবায়ু বাজেট ট্র্যাকিং ব্যবস্থা উন্নত করা, রোগ নজরদারি ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে পুনরাবৃত্ত অর্থায়ন বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য খাতের অভিযোজন উদ্যোগে দেশীয় জলবায়ু অর্থায়নের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করা।

বিষয় : জলবায়ু

The Campus Times online

রোববার, ০৭ জুন ২০২৬


বাড়ছে জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাজেটে কমছে বরাদ্দ

প্রকাশের তারিখ : ০৭ জুন ২০২৬

featured Image

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়লেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় বাজেট বরাদ্দ কমেছে। এ খাতে ব্যয়ের বড় অংশ এখনও প্রকল্পনির্ভর থাকায় দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা গড়ে তোলাও কঠিন হয়ে পড়ছে। 

গতকাল শনিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য অর্থায়ন’ শীর্ষক সংলাপে এসব তথ্য উঠে আসে। সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (সিপিআরডি) উদ্যোগে আয়োজিত এ সংলাপে ‘বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে জলবায়ু অর্থায়ন: নীতিগত অঙ্গীকার ও আর্থিক বাস্তবতা’ শীর্ষক গবেষণা উপস্থাপিত হয়। গবেষণায় দেখা যায়, দেশের জলবায়ু এবং স্বাস্থ্য খাতের ব্যয়ের ৬০ শতাংশের বেশি উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের মোট বাজেটের মধ্যে জলবায়ু-সংশ্লিষ্ট বরাদ্দ ২০২১-২২ অর্থবছরে ছিল ২ দশমিক ৭৪ শতাংশ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা ১ দশমিক ৯৭ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে জাতীয় জলবায়ু বাজেটে স্বাস্থ্য অংশে বরাদ্দ প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমে ১ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রকল্পনির্ভর অর্থায়নের কারণে রোগ নজরদারি, জরুরি প্রস্তুতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, জলবায়ু-স্বাস্থ্য গবেষণা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যব্যবস্থার সহনশীলতা গড়ে তোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো পর্যাপ্ত অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গবেষণায় উল্লেখ করা হয়, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (এনএপি) ২০২৩-২০৫০ এবং স্বাস্থ্য জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় (এইচএনএপি) স্বাস্থ্য খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত হয়নি। এইচএনএপির হিসাব অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে জলবায়ু-সহনশীল স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার প্রয়োজন হবে।

উপকূলীয় নারীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অনুষ্ঠানে ‘নারী ও কিশোরী মেয়েদের প্রজনন স্বাস্থ্যের ওপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মূল্যায়ন’ শীর্ষক আরেকটি গবেষণা উপস্থাপন করা হয়। এই গবেষণায় অংশ নেওয়া প্রায় অর্ধেক নারী অনিয়মিত মাসিক, তীব্র ব্যথা, মাসিক বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণের মতো সমস্যার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি গর্ভপাত, প্রি-একলাম্পসিয়া, সংক্রমণ, প্রসবোত্তর রক্তক্ষরণ এবং দীর্ঘস্থায়ী ব্যথার মতো জটিলতার বিষয়ও উঠে এসেছে। অংশগ্রহণকারী ৮২ দশমিক ৫ শতাংশ নারী জানিয়েছেন, নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত উপকরণের সীমিত প্রাপ্যতা তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। অনেক নারীর মধ্যে পেলভিক ইনফ্লামেটরি ডিজিজ (পিআইডি) এবং বিভিন্ন গাইনোকোলজিক্যাল সংক্রমণের লক্ষণ পাওয়া গেছে।

বাড়তি বিনিয়োগের আহ্বান সিপিআরডির প্রধান নির্বাহী মো. শামসুদ্দোহা বলেন, জলবায়ু অর্থায়ন এখনও একটি অস্পষ্ট ক্ষেত্র।  স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড হেলথ প্রমোশন ইউনিটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. ইকবাল কবির বলেন, বিশ্বব্যাপী মোট জলবায়ু অর্থায়নের মাত্র ৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে যায়।  অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উপসচিব ড. শাহ আবদুল সাদী বলেন, আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন আহরণের জন্য আরও সুস্পষ্ট সংজ্ঞা, খাতভিত্তিক মালিকানা এবং তৃতীয় পক্ষীয় যাচাই ব্যবস্থা জরুরি। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম সোহেল আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি এখনও উন্নয়ন পরিকল্পনায় পুরোপুরি মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে অনেক উদ্যোগ বিচ্ছিন্নভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।  সংলাপ শেষে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটের জন্য কয়েকটি সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে– স্বাস্থ্য জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার অগ্রাধিকারগুলোকে বাজেট প্রক্রিয়ায় আরও জোরালোভাবে অন্তর্ভুক্ত করা, জলবায়ু বাজেট ট্র্যাকিং ব্যবস্থা উন্নত করা, রোগ নজরদারি ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে পুনরাবৃত্ত অর্থায়ন বাড়ানো এবং স্বাস্থ্য খাতের অভিযোজন উদ্যোগে দেশীয় জলবায়ু অর্থায়নের প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি করা।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
বাড়ছে জলবায়ুজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাজেটে কমছে বরাদ্দ
0:00 0:00
1.0x