বিএনপিপন্থী উপাচার্যের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে প্রশাসনের সকল কর্মসূচি বর্জন করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ছাত্রদল। বুধবার সকালে র্যালি ও আলোচনা সভায় অংশ নেয়নি তারা। এমনকি উপাচার্য ও প্রক্টরসহ প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা একাধিকবার তাদেরকে ফোন করে ডাকলেও সাড়া দেয়নি ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ। এদিকে প্রশাসনের আয়োজনে অন্যান্যরা যুক্ত হলেও শাখা ছাত্রদলের উপস্থিত না হওয়ার বিষয়টি নিয়ে ক্যাম্পাসে সমালোচনা শুরু হয়েছে। তবে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ বলছেন, নিজস্ব আয়োজনের মাধ্যমে গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালন করায় প্রশাসনের আয়োজনে অংশ নেয়নি তারা।
জানা যায়, সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইস্যুতে শাখা ছাত্রদলের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমানের। তারা যতবারই উপাচার্যের কাছে কোনো দাবি নিয়ে গেছে ততবারই তাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন উপাচার্য। সর্বশেষ গত সোমবার ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ তাদের ঘনিষ্ঠ এক কর্মকর্তার পদায়নের বিষয় নিয়ে গেলে সেটি নাকচ করে তাদের সঙ্গে একই আচরণ করেন উপাচার্য। এতে রাগান্বিত হয়ে গালিগালাজ করে উপাচার্য কার্যালয় ছাড়েন নেতৃবৃন্দ। এর প্রেক্ষিতে প্রশাসনকে চাপে ফেলতে আজকের আয়োজন বর্জন করেন তারা। তবে নিজস্বভাবে র্যালি ও বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দিবসটি পালন করেছে সংগঠনটি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ছাত্রদল নেতা বলেন, আমরা যতবারই উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করেছি তিনি আমাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। এককথায় তিনি ছাত্রদলকে গণনায়ই ধরেন না। এজন্য আমরা আজকের অনুষ্ঠানে অংশ নেয়নি।
সংগঠনটির শাখা আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, আমাদের নিজস্ব কর্মসূচি থাকায় আমরা প্রশাসনের প্রোগ্রামে অংশ নেইনি। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।