ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনূর রহমান বলেছেন, “গত ১৭ বছর আমি নিয়মিত টিভি টকশোতে অংশগ্রহণ করেছি। ঐ সময়ে আমি অসংখ্য রাত নির্ঘুম কাটিয়েছি। রাত দেড়টাই শুভাকাঙ্ক্ষীরা আমাকে টিভি চ্যানেল থেকে বাসায় পৌঁছে দিয়েছেন। ডিজিএফআই এবং গোয়েন্দা সংস্থার ওভার টেলিফোনের কারণে ঐ সময়গুলোতে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারিনি।”
রবিবার (২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গ্রীন ফোরাম কতৃক আয়োজিত ‘চব্বিশের জুলাই: জনআকাঙ্ক্ষা ও বাস্তবতা’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রবীন্দ্র নজরুল কলা ভবনের গগণ হরকরা মিলনায়তনে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
তিনি বলেন, চব্বিশের আন্দোলনকে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে নিতে গেলে বাংলাদেশকে পিছনের দিকে ঠেলে দেওয়া হবে৷ চব্বিশের আন্দোলনে সকল শ্রেনীর মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহন ছিল। এই আন্দোলনে একজন ভ্যানচালক, রিকশাচালক, মেহনতি মানুষ, অসহায় নারী, পানি বিক্রেতা, পান বিক্রেতাসহ সমাজের প্রত্যেক স্তরের মানুষ লড়াই করেছে। সমাজে প্রতিটি স্তরে স্তরে জুলাই যোদ্ধা লুকিয়ে আছে। যাদেরকে আমরা এখনো দৃশ্যপটে দেখি নাই। বাংলাদেশের ফ্যাসিস্ট সরকার ও তার সঙ্গী ছাড়া প্রত্যেকটি মানুষই জুলাই যোদ্ধার কৃতিত্বের দাবি রাখে।
তিনি আরও বলেন, গত ১৭ বছর একটি ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠী সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের সাথে বৈষম্য করেছে৷ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে যারা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন তাঁদেরকে আড়াল করে তারা অসংখ্য ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সৃষ্টি করেছেন। এভাবে তারা স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রকৃত সত্য আড়াল করে মুক্তিযুদ্ধকে নিজেদের দলীয় গন্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করেছে।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেন এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. ইদ্রিস আলী৷ প্রধান বক্তা ছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। এছাড়া প্রবন্ধ উপস্থাপক ছিলেন অধ্যাপক ড. কামরুজ্জামান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।