ঢাকা    রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
The Campus Times online

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) এক সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও ছেলেদের দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন অন্তত পাঁচজন।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের সংঘর্ষ



বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের সংঘর্ষ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছেলেদের দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: যুগান্তর

শনিবার (১ আগস্ট) মধ্যরাতে মওলানা ভাসানী হল ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, কৃষি অনুষদের ৬৫তম ব্যাচের মেসেঞ্জার গ্রুপে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। মেসেঞ্জার গ্রুপে শুরু হওয়া কথা কাটাকাটির পরে অঞ্চলভিত্তিক আধিপত্যের বিরোধকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মওলানা ভাসানী হলের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, কৃষি অনুষদের প্রথমবর্ষের (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা অঞ্চলভিত্তিক প্রভাব বিস্তারের পর্যায়ে চলে যায়। এলাকার ক্ষমতা দেখিয়ে তারা বিভিন্ন সময় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। মেসেঞ্জার গ্রুপের কথোপকথনের সময় সোহরাওয়ার্দী হলের (জামালপুরের) এক শিক্ষার্থী মওলানা ভাসানী হলের (বগুড়ার) এক শিক্ষার্থীকে উসকানিমূলক কথা বলে। এর প্রেক্ষিতে উত্তেজনা হল পর্যায়ে ছড়িয়ে গেলে মওলানা ভাসানী হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে দিতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে গেলে সেখানে উভয়পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এরপর দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

একই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের এক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মেসেঞ্জার গ্রুপে কথা কাটাকাটির জেরে মাওলানা ভাসানী হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে দিতে সোহরাওয়ার্দী হলের দিকে আসেন। তারা হলের ফটকে এসে অবস্থান নেয় এবং উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় উত্তেজিত হয়ে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরাও হলের ফটকে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের ওপর আকস্মিক আক্রমণ শুরু করে ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে হলের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে বের হলে তাদের ওপরও আক্রমণ করা হয়। এর মাধ্যমেই দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ চলতে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য প্রতিষেধক শাখার চিকিৎসক ড. আমিনুল মতিন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজন শিক্ষার্থী সামান্য আহত অবস্থায় হেলথ কেয়ারে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা বলেন, এ ধরনের ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে এত বড় পরিসরে হাতাহাতি খুবই দুঃখজনক বিষয়। এতে বিশ্বমঞ্চে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সবার উচিত সংঘাতে যাওয়ার আগে সহনশীলতার সঙ্গে চিন্তা করে এগুলো নিজেদের মধ্যে সমাধান করে নেওয়া। যারা এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনসরকারের আশ্বাসে শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা

মওলানা ভাসানী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি বলেন, দুই হলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ভাসানী হলের একজনের কপাল কেটে গেছে এবং অনেকের গায়ে ইটের আঘাত লেগেছে। সংঘর্ষের কারণে হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. একে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, এ ধরনের ঘটনাগুলো নিয়ে আমি নিজেও খুবই চিন্তিত। আমরা তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এ ঘটনার যথাযথ তদন্ত করব। এটা নিশ্চিত করছি যে, এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুল হক হল ও আশরাফুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

বিষয় : সংঘর্ষ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়

The Campus Times online

রোববার, ০২ আগস্ট ২০২৬


বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের সংঘর্ষ

প্রকাশের তারিখ : ০২ আগস্ট ২০২৬

featured Image

শনিবার (১ আগস্ট) মধ্যরাতে মওলানা ভাসানী হল ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, কৃষি অনুষদের ৬৫তম ব্যাচের মেসেঞ্জার গ্রুপে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। মেসেঞ্জার গ্রুপে শুরু হওয়া কথা কাটাকাটির পরে অঞ্চলভিত্তিক আধিপত্যের বিরোধকে কেন্দ্র করে একপর্যায়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মওলানা ভাসানী হলের একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, কৃষি অনুষদের প্রথমবর্ষের (২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থীদের একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে তুচ্ছ বিষয় নিয়ে দুই শিক্ষার্থীর মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা অঞ্চলভিত্তিক প্রভাব বিস্তারের পর্যায়ে চলে যায়। এলাকার ক্ষমতা দেখিয়ে তারা বিভিন্ন সময় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। মেসেঞ্জার গ্রুপের কথোপকথনের সময় সোহরাওয়ার্দী হলের (জামালপুরের) এক শিক্ষার্থী মওলানা ভাসানী হলের (বগুড়ার) এক শিক্ষার্থীকে উসকানিমূলক কথা বলে। এর প্রেক্ষিতে উত্তেজনা হল পর্যায়ে ছড়িয়ে গেলে মওলানা ভাসানী হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে দিতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের সামনে গেলে সেখানে উভয়পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়। এরপর দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপের পাশাপাশি ধাওয়া-পালটা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

একই ঘটনার বর্ণনা দিয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের এক প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মেসেঞ্জার গ্রুপে কথা কাটাকাটির জেরে মাওলানা ভাসানী হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা স্লোগান দিতে দিতে সোহরাওয়ার্দী হলের দিকে আসেন। তারা হলের ফটকে এসে অবস্থান নেয় এবং উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকে। এ সময় উত্তেজিত হয়ে সোহরাওয়ার্দী হলের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরাও হলের ফটকে জড়ো হতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের ওপর আকস্মিক আক্রমণ শুরু করে ভাসানী হলের শিক্ষার্থীরা। পরবর্তীতে হলের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা পরিস্থিতি সামাল দিতে বের হলে তাদের ওপরও আক্রমণ করা হয়। এর মাধ্যমেই দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষ চলতে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য প্রতিষেধক শাখার চিকিৎসক ড. আমিনুল মতিন বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচজন শিক্ষার্থী সামান্য আহত অবস্থায় হেলথ কেয়ারে আসেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা বলেন, এ ধরনের ছোট ঘটনাকে কেন্দ্র করে এত বড় পরিসরে হাতাহাতি খুবই দুঃখজনক বিষয়। এতে বিশ্বমঞ্চে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। সবার উচিত সংঘাতে যাওয়ার আগে সহনশীলতার সঙ্গে চিন্তা করে এগুলো নিজেদের মধ্যে সমাধান করে নেওয়া। যারা এ ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের শাস্তির আওতায় আনা হবে। আরও পড়ুনআরও পড়ুনসরকারের আশ্বাসে শাহবাগের অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেন প্রাথমিক শিক্ষকরা

মওলানা ভাসানী হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি বলেন, দুই হলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। ভাসানী হলের একজনের কপাল কেটে গেছে এবং অনেকের গায়ে ইটের আঘাত লেগেছে। সংঘর্ষের কারণে হলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে। 

উপাচার্য অধ্যাপক ড. একে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, এ ধরনের ঘটনাগুলো নিয়ে আমি নিজেও খুবই চিন্তিত। আমরা তদন্ত কমিটির মাধ্যমে এ ঘটনার যথাযথ তদন্ত করব। এটা নিশ্চিত করছি যে, এর সঙ্গে জড়িত সবাইকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত সপ্তাহে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুল হক হল ও আশরাফুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে একই ধরনের আরেকটি ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফের সংঘর্ষ
0:00 0:00
1.0x