সোয়াদ জেলা সদরের কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের হাটগোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা ও হাটগোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান মোল্যার ছেলে। এ ছাড়া সে কানাইপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
আজ সোমবার বিকেল ৪টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের জেলা সদরের কানাইপুর আখ সেন্টারের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে তামিম ও শাওন নামে সোয়াদের দুই বন্ধু। পরে তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় স্থানীয়রা। তবে তারা আশঙ্কামুক্ত রয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের সহপাঠীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুপুর দেড়টার দিকে স্কুল ছুটি হয়ে যায়। এরপরেই তিন বন্ধু একটি মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়। মোটরসাইকেলটি চালাচ্ছিল তামিম।
বিকেলে ফরিদপুর শহর থেকে ফেরার পথে কানাইপুরের একটি ফিলিং স্টেশন থেকে মোটরসাইকেলে তেল ভরে কানাইপুর বাজারের দিকে মহাসড়কে উঠছিল ৷ এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকের পেছনে ধাক্কা লাগে। তখন ছিটকে মহাসড়কের পাশে পড়ে যায় তারা এবং ঘটনাস্থলেই মারা যায় সোয়াদ মোল্যা। পরে স্থানীয়রা আহত দুজনসহ তিনজনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ছুটে আসেন বাবা মিজানুর রহমান মোল্যা ও মাসহ স্বজনেরা ৷ ছেলের নিথর দেহ দেখে বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন মা। আর হৃদ্রোগে আক্রান্ত বাবা নির্বাক হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। আর মাঝে মাঝে বিলাপ করে ওঠেন-‘আমার একটাই ছেলে ভাই, আর কোনো ছেলে নাই; কি হয়ে গেল. . !’
করিমপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, একটি ইজিবাইকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই মারা যায় একজন। অপর দুইজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।