জানা গেছে, উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের বাঘের বাজার সংলগ্ন একটি পুকুর এক লাখ টাকায় লিজ নিয়ে মাছ চাষ শুরু করেন হামিদুল ইসলাম। প্রায় দেড় মাস আগে তিনি পুকুরে প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ ছাড়েন। মাছ ছাড়ার কিছুদিন পর থেকেই ধীরে ধীরে মাছ মারা যেতে শুরু করে। এতে প্রথম দফায় প্রায় দুই লাখ টাকার মাছ মারা যায়।
প্রথম দফার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে আবারও প্রায় এক লাখ টাকার মাছ পুকুরে ছাড়েন হামিদুল। কিন্তু সেই ক্ষতি সামলে ওঠার আগেই গত তিন দিন ধরে পুকুরে আবারও মাছ মরে ভেসে উঠতে শুরু করেছে। এতে সবমিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।
মৎস্যচাষী হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমি একজন ক্ষুদ্র মৎস্যচাষী। এক লাখ টাকা দিয়ে পুকুরটি লিজ নিয়ে প্রায় দেড় মাস আগে দুই লাখ টাকার মাছ ছাড়ি। প্রথম দফায় মাছ মারা যাওয়ায় অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হই। এরপর আবারও এক লাখ টাকার মাছ ছাড়ি। কিন্তু গত তিন দিন ধরে সেগুলোও মারা যাচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, মাছ মারা যাওয়ার বিষয়টি উপজেলা মৎস্য বিভাগকে জানালে কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পুকুরের পানি ও মাছ পরীক্ষা করেন। তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে পানির গুণগত মান কিংবা মাছের স্বাস্থ্যে কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি। এ কারণে পূর্বশত্রুতার জেরে কেউ পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে মাছ নিধন করে থাকতে পারে বলে তার ধারণা।
স্থানীয় বাসিন্দা ইয়াকুব আলী ও শফিকুল ইসলাম বলেন, হামিদুল ইসলাম একজন ক্ষুদ্র ও পরিশ্রমী মৎস্যচাষী। তার মতো একজন মানুষের স্বপ্ন এভাবে ধ্বংস করে দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, দুই দফায় মাছ মারা যাওয়ার ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষী হামিদুল ইসলাম প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে পূর্বশত্রুতার জেরে কেউ পুকুরে বিষ প্রয়োগ করে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ক্ষতিগ্রস্ত চাষীর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।