ঢাকা    সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
The Campus Times online

দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে আজ সোমবার দুপুর ২টায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজারের দানবাক্সগুলো খোলা হয়।

শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে মিলল যে পরিমাণ টাকা



শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে মিলল যে পরিমাণ টাকা
মাজারে টাকা গণণা করে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা। ছবি: আজকের পত্রিকা

সিলেটের প্রায় ৭০৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে খোলা হয়েছে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স। দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে আজ সোমবার দুপুর ২টায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজারের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। দিনভর গণনা শেষে মাজারের দানবাক্সে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। মাত্র চার দিনে এই টাকা দানবক্সে জমা পড়েছে। প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী গণনা শেষে এই তথ্য জানান ওয়াকফ্ অফিসার সজল মিয়া।

সজল মিয়া জানান, গণনা শেষে আমরা ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পেয়েছি। পাশাপাশি দানবাক্সে টাকার সঙ্গে ৭ আনা সোনাসহ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে রিয়াল, ডলার, পাউন্ড এবং স্বর্ণের চেইন, আংটিসহ ছোট ছোট স্বর্ণের টুকরো। এছাড়া বেশ কয়েকটি চিঠিও পাওয়া গেছে।

এর আগে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে দানবাক্স দরগাহ মসজিদের সামনে গণনার জন্য নেওয়া হয়। জোহরের নামাজের পরপরই শুরু হয় এই ঐতিহাসিক গণনা কার্যক্রম। টাকা গণনার কাজে আধুনিকতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গণনা মেশিন ব্যবহার করা হয়। মোট ৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং দরগাহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দিনভর এই গণনার কাজে সহযোগিতা করেন। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করেন জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাপ্ত এই অর্থ পরবর্তীতে কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।

মাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারের দীর্ঘদিনের চেনা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তাঁর এই পদক্ষেপের পর দেশজুড়ে প্রশংসা ও নানামুখী আলোচনার ঝড় ওঠে। এরই মধ্যে রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। মাজারের দানবাক্সে হাত দেওয়ার পরপরই ডিসির এমন আকস্মিক বদলি হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনার এই নজিরবিহীন উদ্যোগের পেছনে থাকা সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমকে আকস্মিক প্রত্যাহারের ঘটনায় সোমবার দিনভর সিলেটজুড়ে মিছিল সমাবেশে করেছে বিভিন্ন সংগঠন। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই চলেই এই মানববন্ধন ও সমাবেশ। এর আগে রোববার বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে ডিসিকে পুনরায় বহালের দাবি জানানো হয়।

বিষয় : জেলার খবর শিক্ষার্থী সিলেট বিভাগ মাদ্রাসা টাকা

The Campus Times online

সোমবার, ২২ জুন ২০২৬


শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে মিলল যে পরিমাণ টাকা

প্রকাশের তারিখ : ২২ জুন ২০২৬

featured Image

সিলেটের প্রায় ৭০৭ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে খোলা হয়েছে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানবাক্স। দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে আজ সোমবার দুপুর ২টায় জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে মাজারের দানবাক্সগুলো খোলা হয়। দিনভর গণনা শেষে মাজারের দানবাক্সে মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়। মাত্র চার দিনে এই টাকা দানবক্সে জমা পড়েছে। প্রায় ৪ ঘণ্টাব্যাপী গণনা শেষে এই তথ্য জানান ওয়াকফ্ অফিসার সজল মিয়া।

সজল মিয়া জানান, গণনা শেষে আমরা ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পেয়েছি। পাশাপাশি দানবাক্সে টাকার সঙ্গে ৭ আনা সোনাসহ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে রিয়াল, ডলার, পাউন্ড এবং স্বর্ণের চেইন, আংটিসহ ছোট ছোট স্বর্ণের টুকরো। এছাড়া বেশ কয়েকটি চিঠিও পাওয়া গেছে।

এর আগে সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে দানবাক্স দরগাহ মসজিদের সামনে গণনার জন্য নেওয়া হয়। জোহরের নামাজের পরপরই শুরু হয় এই ঐতিহাসিক গণনা কার্যক্রম। টাকা গণনার কাজে আধুনিকতা ও স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গণনা মেশিন ব্যবহার করা হয়। মোট ৩৬ জন স্বেচ্ছাসেবক এবং দরগাহ মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা দিনভর এই গণনার কাজে সহযোগিতা করেন। পুরো প্রক্রিয়াটি তদারকি করেন জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাপ্ত এই অর্থ পরবর্তীতে কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।

মাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজারের দীর্ঘদিনের চেনা আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছিলেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। তাঁর এই পদক্ষেপের পর দেশজুড়ে প্রশংসা ও নানামুখী আলোচনার ঝড় ওঠে। এরই মধ্যে রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে মো. সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসকের পদ থেকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়। মাজারের দানবাক্সে হাত দেওয়ার পরপরই ডিসির এমন আকস্মিক বদলি হয়েছে বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন।

এদিকে মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনার এই নজিরবিহীন উদ্যোগের পেছনে থাকা সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমকে আকস্মিক প্রত্যাহারের ঘটনায় সোমবার দিনভর সিলেটজুড়ে মিছিল সমাবেশে করেছে বিভিন্ন সংগঠন। বৃষ্টি উপেক্ষা করেই চলেই এই মানববন্ধন ও সমাবেশ। এর আগে রোববার বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে ডিসিকে পুনরায় বহালের দাবি জানানো হয়।


The Campus Times online

সাধারণ সম্পাদক: মোঃ সেলিম রেজা
প্রকাশক: মোঃ সেলিম রেজা (বিএ, অনার্স, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)

কপিরাইট © ২০২৬ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ক্যাম্পাস টাইমস অনলাইন
শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে মিলল যে পরিমাণ টাকা
0:00 0:00
1.0x